
শেষ আপডেট: 12 November 2023 13:30
সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিং
কালীপুজোর দিন পুজো সেরেই বেরিয়ে পড়তেন ডাকাতি করতে। লুঠ করে আনা জিনিস বিলিয়ে দিতেন দরিদ্রের মধ্যে। প্রায় ৪৬ বছর আগে গোকুল নস্করকে এভাবেই চিনতেন সুন্দরবনের মানুষ। সেই ডাকাত গোকুল যেন এখন 'বাল্মিকী'। ডাকাতি ছেড়ে দিয়ে তিনি মানবসেবায় নিজেকে উজার করে দিয়েছেন। অতীতের ডাকাত সর্দার গোকুল এখন 'গোকুল মহারাজ'।
বিশাল চেহারার গোকুলের বয়স ৮৬ ছুঁই ছুঁই। ২০০১ সালে গড়ে তোলা আশ্রমের কাজ নিয়ে কেটে চলেছে তাঁর দিন। আশ্রমের নাম শ্রী শ্রী ঠাকুর সত্যানন্দ কৃষ্ণকালী সেবাশ্রম।
গোকুল জানিয়েছেন, তাঁকে মূলস্রোতে আনার পিছনে জয়নগর থানার তৎকালীন ওসি সোমদেব ব্যানার্জীর বড় ভূমিকা রয়েছে। সোমনাথবাবুই প্রথম তাঁকে অপরাধ জগতের চক্রব্যূহ থেকে টেনে বের করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। গোকুলের কথায়, সোমনাথবাবু হাত না বাড়িয়ে দিলে অন্ধকার জগতে শেষ হয়ে যেত গোটা জীবন। এমনকী পুলিশের ওই কর্তা নানা ভাবে তাঁর আশ্রম চালাতে সাহায্য করে গিয়েছেন।
নিজের অতীত সম্পর্কে বলতে গিয়ে গোকুল জানান, ১১ জন ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। প্রথমে তিনি মাছ বিক্রি করতেন। কিন্তু সেই উপার্জনের টাকায় অভাব মিটত না। তাই অপরাধ জগতে পা রেখেছিলেন গোকুল। একসময় পিয়ালী নদীর তীরের এলাকাগুলিতে ছিল তাঁর রাজত্ব। তাঁর ভয়ে কাঁপত সকলে। কুলতলির মেরিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা গোকুলের নামে একসময়ে ৭৮ টি ফৌজদারি মামলা ছিল। এমন একটি দিন যেত না, যখন তাঁর খোঁজে পুলিশ গ্রামে আসেনি। এক সময় অতিষ্ঠ হয়ে তাঁর স্ত্রী তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তারপর থেকেই গোকুল নস্করের ঠিকানা ছিল জেলখানা। তবে খুন, নারীপাচারের মতো কোনও অপরাধের সঙ্গে কোনওদিনই জড়াননি গোকুল।
এখন অবশ্য কালী সাধনা নিয়েই থাকেন ক্যানিংয়ের 'বাল্মিকী'। অনুদান পেলে দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ান। আয়লা, আমফানের মতো দুর্যোগে তাঁকে পাশে পেয়েছেন সাধারণ মানুষ।