দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণের কারণে এই নিরবচ্ছিন্ন লকডাউনের জেরে চরম বিপদে পড়েছেন সারা দেশের ক্যানসার রোগীরা এবং প্রসূতিরা। এমনটাই বলছে ন্যাশনাল হেল্থ অথরিটির একটি সমীক্ষার রিপোর্ট। তাদের দাবি, ক্যানসারের চিকিৎসায় পরিষেবা পাননি ৬৪ শতাংশ রোগী। ২৬ শতাংশ সন্তানের জন্ম ব্যর্থ হয়েছে চিকিৎসার অভাবে।
রিপোর্ট বলছে, লকডাউনের পর থেকে এই ধরনের বহু জরুরি পরিষেবা নানা কারণে ব্যাহত হয়েছে। এমনকি সরকারি তথ্য বলছে, কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মীন ভারত প্রকল্পের আওতায় যে রোগীদের চিকিৎসা হতো, তাঁদের সংখ্যাও গড়ে ৫১ শতাংশ কমে গেছে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে। এই হ্রাসের পরিসংখ্যান বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন রকম। অসম, মহারাষ্ট্র, বিহারে যেখানে ৭৫ শতাংশ কমেছে চিকিৎসা, উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাব, কেরালায় কমেছে ২৫ শতাংশ।
শুধু তাই নয়। চিকিৎসা থেকে বঞ্চিতদের মধ্যে বেশির ভাগই হয় ২০ বছরের নীচের বা ৬০ বছরের ওপরের বয়সের মানুষ। তবে মাঝবয়সি বহু মহিলা সমস্যায় পড়েছেন সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে। এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-র মুখ্য গবেষক সৌম্য স্বামীনাথনও। তাঁর কথায়, "কোভিড ১৯-এ মারা যাওয়া মানুষগুলি ছাড়াও আরও কত মানুষ যে অন্যান্য অসুখে মারা যাচ্ছেন এই লকডাউনে, আমরা জানি না। আমরা দেখতেও চাই না এত মৃত্যু। হার্টের অসুখে, আচমকা স্ট্রোক হয়ে, টিবিতে ভুগে-- এরকম নানা অসুখের চিকিৎসা না পেয়ে বেঘোরে চলে যাচ্ছেন তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও পরিকল্পনা ও চিন্তা দরকার।"
তথ্য বলছে, ৯০ শতাংশে চোখের এবং হাঁটুর অস্ত্রোপচার, যেগুলি আগে থেকে ঠিক হয়েছিল, তা লকডাউনের কারণে স্থগিত হয়েছে। ৬ শতাংশ ক্ষেত্রে মেলেনি ডায়ালিসিস পরিষেবা। হৃদরোগের বহু অস্ত্রোপচার হয়নি। তবে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো সমস্যায় ভুগেছেন ক্যানসারের রোগীরা এবং প্রসূতিরা।
রিপোর্টে প্রকাশিত, এর মূল কারণ হল বিভিন্ন হাসপাতালে কোভিড রোগী ছেয়ে যাওয়ায় নন-কোভিড রোগীদের ভর্তিই করা সম্ভব হয়নি। অনেক জায়গায় আবার রোগীরা বাধা পেয়েছেন, তাঁরা কোভিড আক্রান্ত হতে পারেন এই সন্দেহে। কারণ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সংক্রমণ হয়ে যেতে পারার ঝুঁকি নিতে চাননি। আবার বহু ক্ষেত্রে বহু রোগী হাসপাতালে পৌঁছনোর যানবাহনই জোগাড় করে উঠতে পারেননি। লকডাউনেক কারণে রোজগার বন্ধ থাকাটাও বাধা হয়েছে অনেক সময়।
স্বাস্থ্য আন্দোলনের এক কর্মী এবং আইনজীবী অশোক আগরওয়াল এ বিষয়ে বলেন, এই লকডাউনের সময়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ভূমিকা রীতিমতো হতাশ করেছে। একের পর এক গরিব রোগীকে ফিরিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। অবহেলা করেছেন, ঝুঁকির ভয়ে। অথচ কোভিড এবং নন-কোভিড সর রোগীদেরই একই রকম চিকিৎসা পাওয়ার কথা ছিল সবসময়।
ওই রিপোর্ট এ-ও উল্লেখ করেছে, এই মহামারী পরিস্থিতি ও তার জেরে লকডাউন কবে উঠবে কেউ জানে না। কিন্তু এমনটা চলতে থাকলে নানা অসুখে আক্রান্ত বহু রোগী বিপদে পড়বেন। এই সমস্যার সমাধানের জন্য সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ করা উচিত।