দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকাকে অবাক করে দিয়ে বিশ্বে প্রথমবার মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠিয়েছিল রাশিয়া। সেই ঘটনাকে মনে করিয়ে এবার বিশ্বে প্রথম করোনা ভ্যাকসিনের দাবিদার রুশ সরকার। ১৯৫৭ সালে পাঠানো উপগ্রহের সঙ্গে নাম মিলিয়ে ভ্যাকসিনের নাম রাখা হয়েছে 'স্পুটনিক ভি'। কিন্তু সেই ভ্যাকসিন নিয়ে ভরসার থেকে বিতর্কই বেশি।
আরও পড়ুন
আমেরিকা, ব্রিটেন আগেই চটজলদি সাফল্য দাবি করা এই ভ্যাকসিন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। অনেক আগেই রাশিয়াকে টিকা তৈরির প্রচলিত পথ মনে করিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। এবার কানাডা সরাসরি জানিয়ে দিল, রাশিয়ার ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হবে না। যে দ্রুততার সঙ্গে নিজেদের ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিয়েছে পুতিন সরকার, তাতে বিষ্ময় প্রকাশ করে কানাডার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হাওয়ার্ড এনজু বলেছেন, এই ভ্যাকসিন নিয়ে তথ্যের অভাব রয়েছে। সেই কারণেই রুশ ভ্যাকসিন ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবারই ভ্যাকসিনে ছাড়পত্র দেয় রুশ স্বাস্থ্যমন্ত্রক। রেকর্ড সময়ের মধ্যে করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে ফেলার দাবি করেন খোদ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। জানান, তাঁর মেয়ের শরীরেও এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর দু’মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিনের সাফল্য দাবি করেছে মস্কো।
এখানেই শেষ নয়, আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই ভ্যাকসিনের উৎপাদন শুরুর দাবি জানিয়েছে রুশ সরকার। বলা হয়েছে, অক্টোবরেই রাশিয়ায় গণটিকাকরণ হতে পারে এবং চলতি বছরের শেষে ২ কোটি ডোজ তৈরি করা সম্ভব হবে। শুধু রাশিয়া নয়, বিশ্বের কুড়িটি দেশ এই ভ্যাকসিন নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও দাবি করে রাশিয়ার সরকারি সংস্থা রাশিয়ান ডায়রেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (আরডিআইএফ)। বলা হয়, এই ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল হবে আগ্রহী দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ব্রাজিল, ফিলিপিন্স এবং ভারতে। এর পরে শুরু হবে উৎপাদন। তাতেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হাত মেলাবে রাশিয়া। সেই তালিকাতেও ভারত রয়েছে। ভারত ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং কিউবায় ‘স্পুটনিক ভি’ উৎপাদন হবে বলে দাবি করা হয়েছে রুশ সরকারের বিবৃতিতে।
যদিও এই ভ্যাকসিনের অনুমোদন নিয়ে এখনও 'হ্যাঁ' বলেনি ভারত। বুধবার দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (এইমস) জানিয়েছে, রাশিয়ার টিকা তথা ‘স্পুটনিক ভি’ মানুষের শরীরে সত্যিই কার্যকরী কিনা আগে সেটা যাচাই করতে হবে। সুরক্ষার বিষয়টাও মাথায় রাখা দরকার। টিকা দেওয়ার পরে শরীরে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিনা আগে সেটা পরীক্ষা করা দরকার, তারপরেই টিকা প্রয়োগের কথা ভাবা যাবে।