
শেষ আপডেট: 24 April 2024 20:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকাল সকালই হাইকোর্টে এসেছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। মামলার শুনানির সময় এজলাসেও এসেছিলেন, কিন্তু কোনও আইনজীবীই ছিলেন না। ২৪ মিনিট বসে থাকার পর এজলাস ছাড়েন বিচারপতি। তারপরই 'বিক্ষুব্ধ' আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। এজলাস বয়কট তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। হাইকোর্ট সূত্রে খবর, বিচারপতির অনুরোধ মেনে নিয়ে বয়কট তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আইনজীবীরা।
গত সোমবার এক মামলার শুনানির সময় এক আইনজীবীকে হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ভরা এজলাসে এক আইনজীবী প্রসেনজিৎ মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেন বিচারপতি। সেই নির্দেশের প্রতিবাদে গর্জে ওঠে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীদের একাংশ। বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস বয়কটের ডাক দেওয়া হয়।
আইনজীবীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার রাতেই স্পেশাল কোর্ট বসে। বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের বেঞ্চ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়। তবে আইনজীবীদের দাবি, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে ক্ষমা চাইতে হবে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও বার অ্যাসোসিয়েশনের কাছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হাইকোর্টে ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। আইনজীবীদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। শুধু ১৭ নম্বর এজলাসের ছবিটা ছিল অন্যরকম। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এসে বসে থাকলেও অধিকাংশ আইনজীবী না আসায় মামলার শুনানি হয়নি। এজলাসে বসেই বিচারপতি বলেন, আমি দুপুর দেড়টায় বার অ্যাসোসিয়েশনের অফিসে যাব। আইনজীবীদের কাছে অনুরোধ করব। তাঁরা যেন শুনানিতে আসেন সেটাই বলব।'
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় আরও বলেন, 'আমি বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিশ্বব্রত বসুমল্লিকের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি ওদের অফিসে যাব। জানার চেষ্টা করব কেন তাঁরা আমার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ করছেন। আমি ওই আইনজীবী প্রসেনজিতকে খুব ভালবাসি। ও আমাকেও খুবই ভালবাসে, তাই হেসে ফেলেছিল।'
কথা মতোই ঘড়ির কাঁটায় দুপুর দেড়টা নাগাদ বার অ্যাসোসিয়েশনের অফিসে যান বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। কথা বলেন আইনজীবীদের সঙ্গে। তারপরই আইনজীবীরা কিছুটা নরম হন। বয়কট তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেন।