
শেষ আপডেট: 22 November 2023 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ২৯ নভেম্বর ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে বিজেপির সভা নিয়ে এবার হাইকোর্টের কড়া প্রশ্নের মুখে রাজ্য সরকার। কেন বুধবার মামলা দায়ের করলেও সেই মামলার শুনানির দিন রাখা হয়েছে অমিত শাহের সভার ঠিক আগের দিন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের কাছে তার ব্যাখ্যা তলব করেছে আদালত।
আগামী ২৯ নভেম্বর বিজেপির সভায় উপস্থিত থাকার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। দুবার দিনক্ষণ জানিয়ে সভার অনুমতি চাওয়া সত্ত্বেও কলকাতা পুলিশের তরফে সভার অনুমতি না মেলায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য বিজেপি। সেই মামলায় গত সোমবারই আদালত জানিয়ে দিয়েছিল বিজেপি ওই জায়গায় সভা করতে পারবে। কিন্তু সিঙ্গল বেঞ্চের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বুধবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। সেই মামলার শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চে মুখ পুড়ল রাজ্যেরই।
এদিন মামলাকারী বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষের আইনজীবী বলেন, রাজ্য ২৮ নভেম্বর ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। আর পরের দিন সভা। আসলে সভা যাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা যায়, এটা তার কৌশল। একথা শুনেই রাজ্যের আইনজীবীকে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত প্রশ্ন করেন, বুধবার মামলা দায়ের করে কেন সেই মামলার শুনানির ডেট এতদিন পরে রাখা হয়েছে!
রাজ্যের কাছে এই ঘটনার ব্যাখ্যা তলব করেছেনা বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। আগামীকাল দুপুর ২টোর মধ্যে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে হবে রাজ্যকে। আর তার আগে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়ে গেলে তখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে সিঙ্গেল বেঞ্চ, জানিয়েছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।
প্রসঙ্গত, বিজেপি যেখানে সভা করার অনুমতি চেয়েছে, ওই একই জায়গায় ২১ জুলাইয়ের সভা করে তৃণমূল। বিজেপির তরফে প্রাথমিকভাবে ২৮ তারিখ সভা করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল কলকাতা পুলিশের কাছে। কিন্তু কম্পিউটারের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা জানিয়ে দেয়, ওই দিন সভা করার জন্য জায়গা খালি নেই। এরপর তারিখ পাল্টে ২৯ নভেম্বর সভার অনুমতি চাইলে তাও একই কারণ দেখিয়ে খারিজ করে দেওয়া হয়। র্পরেই হাইকোর্টে মামলা করেন বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
তার শুনানিতে বিচারপতি রাজশেখর মান্থার সিঙ্গল বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ওই জায়গায় সভা করতে পারবে গেরুয়া শিবির। এমনকী, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই বারবার সভার আবেদন নাকচ করে দেওয়া হচ্ছে কিনা সে প্রশ্নও তুলেছিলেন বিচারপতি মান্থা। তাঁর রায় পছন্দ না হওয়ায় বুধবার ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিল রাজ্য। কিন্তু তাতেও ধাক্কাই খেতে হল।