
কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 22 April 2024 08:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটপর্বের মধ্যেই এসএসসির নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবার রায় দিতে চলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। একসঙ্গে ৩৫০টি মামলার রায় ঘোষণা করবে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলেছে। গত ২০ মার্চ ওই বেঞ্চে শুনানি শেষ হয়।রায় ঘোষণা স্থগিত রেখেছিল আদালত।
প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে অনেকের চাকরি বাতিল হয়েছিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে ৫ হাজার চাকরি বাতিল করে স্কুল সার্ভিস কমিশন। চাকরি হারানো শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীরা শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের সাময়িক রক্ষাকবচ দেয়। সঙ্গে মামলা ফের কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে ফেরত পাঠানো হয়। ছয় মাসের মধ্যে মামলার রায়দানের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতির নির্দেশে গ্রুপ ডি, গ্রুপ সি, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির সব মামলা বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রসিদির ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। প্রায় তিন মাস ধরে দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানি চলে।
মাসের পর মাস রাস্তায় বসে ন্যায্য চাকরির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীদের একটা বড় অংশ। সোমবার কি তাঁরা ইতিবাচক কিছু শুনতে পাবেন? প্রায় ২৫ হাজার প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সোমবারের এই রায়ের ওপর। আদালত যাদের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল তাঁরা কি চাকরিতে বহাল থাকবেন, অন্যদিকে মেধা তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও যাদের চাকরির সুযোগ মেলেনি তাঁদের ভাগ্যও কি খুলবে, উৎকন্ঠা সবপক্ষেরই।
গত তিন বছরে বাংলার রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোড়ন তোলা বিষয় নিয়োগ দুর্নীতি মামলা। স্কুলে শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগে বহু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। চলতি লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, এমনকী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই নিয়োগ দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে নিশানা করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে গোটা গেরুয়া শিবির সহ অন্য বিরোধীরা। তাই আজ হাইকোর্ট কী রায় দেয়, সেদিকেই যেমন শিক্ষামহলের নজর থাকবে, তেমনই মুখিয়ে রয়েছে শাসক-বিরোধী রাজনীতিকরাও।