দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলিশ ছাত্র কামিল সিয়েদসিনস্কি। বিদেশি হয়ে ভারতের আইনের বিরোধিতা করায় তাঁকে দেশ ছাড়ার নোটিস দিয়েছিল ফরেনার রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস। তার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পোল্যান্ড থেকে আসা ওই পড়ুয়া। সেই মামলায় কেন্দ্রের নোটিসের উপর স্থগিতাদেশ দিল হাইকোর্ট।
বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের মাস্টার ডিগ্রির ছাত্রের আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক ১৮ মার্চ পর্যন্ত কেন্দ্রের নোটিসের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে।
কেন্দ্রের তরফে ছাত্রের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করা হয় আদালতে। বলা হয়, কোনও বিদেশি নাগরিক ভারতের আইনের বিরোধিতা করতে পারেন না। এটা সংবিধান বিরোধিতার সমান। দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর বিচারক ওই নির্দেশ দেন।
কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশ থেকে বিশ্বভারতীতে পড়তে আসা ছাত্রী আফসারা অনীকা মীমকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল ফরেনার রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস। তারপর সেই তালিকায় যুক্ত হন পোল্যান্ড থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা ছাত্র কামিল সিয়েদসিনস্কি।
গত ডিসেম্বর মাসে মৌলালিতে সিএএ, এনআরসি, এনপিআর বিরোধী একটি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন কামিল। তাঁর ছবি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। এরপরই ওই ছবি দিয়ে কেউ বা কারা অভিযোগ জানায় বিদেশমন্ত্রকে। তার প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছেও কামিলের দেশ ছাড়ার নির্দেশের চিঠি এসে পৌঁছয়। কামিলকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন কলকাতা হাইকোর্টের বেশ কয়েকজন আইনজীবী। তাঁরাই পিটিশন দাখিল করেন হাইকোর্টে। আগামী ১৭ মার্চ ফের এই মামলার শুনানি হবে।