
শেষ আপডেট: 14 December 2023 16:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইনের রক্ষক যাঁরা, তাঁদের বিরুদ্ধেই আইন ভঙ্গের অভিযোগ! একজনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে মেরে দেহ ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাতেই রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
ঘটনাটি নদিয়া জেলার মরুটিয়া থানায় এলাকার। দশ বছর আগে একটি মাদক মামলায় নাম জড়িয়েছিল এলাকার বাসিন্দা মোহন মণ্ডলের। সেই ঘটনায় আগে মোহনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পায় অভিযুক্ত। দশ বছর আগের সেই মামলায় চলতি বছরের ২৬ অগস্ট রাত ১টার সময় মরুটিয়া থানার পুলিশ ফের মোহনকে গ্রেফতার করার জন্য তার বাড়িতে যায়।
তখন মোহন ও তার স্ত্রী পুলিশকে জানায়, সে আগেই জামিন পেয়েছে। অভিযোগ, মোহনকে গ্রেফতার না করার জন্য পুলিশ ৩ লক্ষ টাকা দাবি করে। কিন্তু মোহন টাকা দিতে না চাওয়ায় তার ভাই শওকত মণ্ডলকে মারধর করে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। সেদিন ভোরবেলায় একটি বাঁশ বাগানে শওকতের দেহ খুঁজে পাওয়া যায়। এরপরেই পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন শওকতের স্ত্রী মঞ্জুরা বিবি।
সেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত গত ১৮ সেপ্টেম্বর নির্দেশ দিয়েছিলেন, থানার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে। এছাড়া পুলিশ স্টেশনের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করে রাখা নির্দেশ দেন তিনি। শওকতের মৃতদেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করারও নির্দেশ দেয় আদালত।
অভিযোগ, এরপরে সেদিন রাতে এই মোহনের স্ত্রী মাফুজা বিবিকে থানায় তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলে গ্রেফতার করা হয় মাফুজাকে। শওকতের স্ত্রী সহ মোহনের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও কিছু না কিছু অভিযোগে মামলা দায়ের করে পুলিশ। এমনকী শওকতের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় যারা সাক্ষী ছিল, তাদের নামও ওই খুনের মামলায় পুলিশ জড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ।
এরপরেই আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি চিত্তরঞ্জন দাসের ডিভিশন বেঞ্চ পাল্টা পুলিশের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত জানিয়েছে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সিবিআই এই তদন্তের দায়িত্বভার গ্রহণ করবে। শুধু তাই নয়, ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে।
এর পাশাপাশি শওকত এবং যে খুনের মামলায় মাফুজা, শওকতের স্ত্রী ও আরও কয়েকজনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, সে দুটি খুনের ঘটনাই খতিয়ে দেখার জন্য সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নদিয়ার এসপিকে এই রায়ের কপি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি চিত্তরঞ্জন দাস ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। নদিয়ার পুলিশ সুপারকে ওই ঘটনায় মুরুটিয়া থানার অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর মামলায় এর আগে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর বেঞ্চ ১৮ সেপ্টেম্বর থানার তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে সরাসরি পুলিশ সুপারকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে এসপিই এই তদন্ত চালাচ্ছেন।
আবার শওকতের স্ত্রীকে অন্য একটি খুনের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগের মামলা উঠেছিল বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে। সেই মামলায় ডিভিশন বেঞ্চ যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল তাতে পুলিশের বিরুদ্ধে ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগে সারবত্তা আছে বলে ইঙ্গিত ছিল আদালতের রায়ে।