
শেষ আপডেট: 18 April 2024 13:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাধ্যমিকের ফল বেরনোর পর খুব একটা খুশি হয়নি সোনারপুরের বাসিন্দা তন্ময়। ৬৭২ নম্বর পেলেও তার মনে হয়েছিল, আরও বেশি পেরে পারতো। তাই পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছে স্ক্রুটিনি করার আবেদন জানায় সে। তিনটি বিষয়ে স্ক্রুটিনি করার আর্জি করেছিল তন্ময়। অভিযোগ, এই বিষয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের উদাসীন মনোভাব দেখায়। কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তন্ময়। ওই ছাত্রের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।
৭০০ নম্বরের মধ্যে ৬৭২ নম্বর পেয়েছিল তন্ময়। তবে তার মনে হয়েছিল, ইতিহাস ,অঙ্ক ও বাংলায় সে যা নম্বর পেয়েছিল তার থেকে আরও বেশি নম্বর পেতে পারতো। কিন্তু সেই সময় মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আবেদন মতো স্ক্রুটিনি করেনি বলেই অভিযোগ। হাইকোর্টে মামলাকারীর আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী বলেন, "স্ক্রুটিনির আবেদন করতেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদ শুধুমাত্র ইতিহাসে ৫ নম্বর বাড়ায়। তার ফলে ৬৭২ থেকে তন্ময়ের প্রাপ্ত নম্বর বেড়ে হয় ৬৭৭। কিন্তু বাংলা ও অঙ্কে স্কুটিনির রেজাল্ট অপরিবর্তিত রাখে পর্ষদ।
মামলাকারীর আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরীর দাবি ছিল, নম্বরের সঠিক মূল্যায়ন হলে তাঁর মক্কেল মাধ্যমিক পরীক্ষায় এক থেকে দশম স্থানের মধ্যে থাকবে। পরে তিনি আদালতকে জানান, তন্ময় বাংলা ও অঙ্কের উত্তরপত্রের কপি দেখতে চেয়ে আবেদন জানায় পর্ষদের কাছে। গত বছর ৭ আগস্ট উত্তরপত্র হাতে পেয়ে সে দেখতে পায়, তার বাংলায় সঠিক উত্তরের সাড়ে ৬ নম্বর দেওয়াই হয়নি! অন্যদিকে, অঙ্কেও ২ নম্বর কম দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ নম্বর পেলে তার মোট প্রাপ্ত নম্বর হবে ৬৮৫.৫। অথচ যে ২০২৩ সালে দশম স্থান পেয়েছিল তার প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৬৮৪।
তন্ময়ের অভিযোগ, বিষয়টি মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে জানানোর পরে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি তাঁরা। পাশাপাশি রাজ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সে দশম স্থানে থাকা সত্ত্বেও তাকে সরকারিভাবে কোনও স্থান দেওয়া হয়নি। আইনজীবীর বক্তব্য, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অসতর্কতার কারণে তন্ময় মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।
এই মামলার শুনানিতে বিস্ময় প্রকাশ করেন হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে তন্ময়ের আবেদন মঞ্জুর করতে হবে, এমন নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁকে তাঁর ন্যায্য প্রাপ্ত নম্বর দিতে হবে।