
শেষ আপডেট: 13 December 2023 13:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেঁচে থাকলে আপনারা তাঁকেও অভিযুক্ত বানিয়ে দিতেন। বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর মামলায় এমনই মন্তব্য কলকাতা হাইকোর্টের। পুলিশের আচরণে বিরক্তি হয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।
গত ৭ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি লেখেন বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। সেই চিঠিতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিল্পীসত্তা নিয়ে তাঁর মত প্রকাশ করেন। তার ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। সেই প্রেক্ষিতেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বিদ্যুৎবাবু। বুধবার সেই মামলারই শুনানি চলছিল হাইকোর্টে। বিচারপতি বিদ্যুতের বিরুদ্ধে অভিযোগ শোনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েই এদিন প্রশ্ন তোলেন।
বিচারপতি সেনগুপ্ত বলেন, ''রবীন্দ্রনাথ জীবিত থাকলে আপনারা কি যে করতেন? তাকেও অভিযুক্ত করে দিতেন।'' "এতে ধর্তব্য যোগ্য অপরাধ কি আছে? প্রাথমিক অনুসন্ধান না করেই পুলিশের অভিযোগের মধ্যে ধর্তব্যযোগ্য অপরাধ পেয়ে গেল ? এফআইআর দায়ের করে দিল? সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন দেখল না?" চিঠি দেখে এমনই প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি।
বিচারপতির মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পাল্টা রাজ্যের আইনজীবী জানায়, "আমরা অভিযোগ পেয়ে এফআইআর দায়ের করেছি।” আসলে চিঠির প্রসঙ্গ অকারণে এবং অমূলকভাবে মামলার সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তা বোঝাতেই পুলিশকে কটাক্ষ করে রবীন্দ্রনাথের প্রসঙ্গ টেনে আনেন বিচারপতি। সঙ্গে বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নয়। আদালতের নির্দেশ ছাড়া চার্জশিট বা কোন ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের। আগামী ১১ জানুয়ারি বিকেল ৩টেয় এই মামলার রায় ঘোষণা করবে হাই কোর্ট।