
কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 6 May 2024 07:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগের গোটা প্যানেল বাতিল করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। এবার ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেট পরীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ওএমআর শিটের তথ্য খুঁজে পাওয়া না গেলে ২০১৪-র প্যানেল বাতিল করা হতে পারে, এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
সিবিআইয়ের প্রাথমিক রিপোর্টে ধরা পড়েছে, ২০১৪-র টেটে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সেক্ষেত্রে পর্ষদ যোগ্য-অযোগ্যদের তালিকা আলাদা করতে না পারলে ২০১৪-র টেট পরীক্ষা কীভাবে বৈধ থাকবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা।
টেটের মামলায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং ওই উত্তরপত্র স্ক্যান করার দায়িত্বে থাকা সংস্থা এস বসুরায় অ্যান্ড কোম্পানির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। আদালতের প্রশ্ন, টেট পরীক্ষা নিতে কী নিয়ম তৈরি করা হয়েছিল? কেন টেন্ডার ছাড়া এস বসুরায় অ্যান্ড কোম্পানিকে বরাত দেওয়া হল? এই সমস্ত তথ্য পেশ করতে হবে।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, এস বসুরায় অ্যান্ড কোম্পানি প্রায় আট হাজার উত্তরপত্রের প্রতিলিপি পর্ষদকে দিয়েছিল। মোট ৭৫২ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল স্থগিত রাখা হয়। পরে অবশ্য উত্তীর্ণ হয়েছে বলে তাঁদের দেখানো হয়। উত্তরপত্র স্ক্যান করা না থাকলে তা সম্ভব হতো না। এই মামলায় ৫৯ হাজার ৫০০ জন প্রার্থীর ভাগ্য ঝুলছে। শুধু ওএমআর শিট কারচুপি নয়, তালিকাতেও গরমিল করা হয়েছে বলেও মামলায় দাবি করেছেন প্রার্থীরা।
মামলাটির শুনানিতে সিবিআইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ওএমআর শিটের আসল কপি খুঁজে বার করতে হবে। ডিজিট্যাল ফুটপ্রিন্ট কোথায় রয়েছে, সেটাও খুঁজে বার করবে। ফলত, এই টেট মামলার রায় প্রাথমিকের নিয়োগের উপর প্রভাব পড়তে পারে। স্বাভাবিকভাবেই, অস্বস্তির মুখে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। চলতি মাসের শেষ সোমবার সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানি হবে।
একদিকে সোমবার শীর্ষ আদালতে এসএসসি মামলার শুনানি। ২৫৭৫৩ জন চাকরিহারাদের মধ্যে যোগ্য-অযোগ্য বিভাজনের রফা মিলবে কিনা সেদিকে তাকিয়ে সব পক্ষ। এরই মাঝে ২০১৪ সালের প্রাথমিকে নিয়োগ নিয়েও বাড়ছে দুঃশ্চিন্তা।