
শেষ আপডেট: 5 March 2024 11:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনার জলঘোলা চলছেই। সেই আবহে আজ, মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির কাছে ইস্তফাপত্র পাঠাবেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। নিয়ম অনুযায়ী তার প্রতিলিপি যাবে দেশের প্রধান বিচারপতি এবং কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে। সেই উপলক্ষে ইতিমধ্যেই হাইকোর্টে পৌঁছে গিয়েছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, মঙ্গলবার বিচারের কোনও কাজ করবেন না। মঙ্গলবার দেড়টার সময় কোর্টে মাস্টারদা সূর্য সেনের মূর্তির নীচে দাঁড়িয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু, হাইকোর্টে বারবার অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে পর্যুদস্ত ও ধাক্কা খাওয়া তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও পালটা কর্মসূচি নিয়েছেন ঠিক ওই সময়েই।
শ্রীরামপুরের লোকসভা সদস্য কল্যাণ ও তৃণমূলপন্থী আইনজীবীরা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সাংবাদিক সম্মেলনের ঠিক উলটোদিকে দাঁড়িয়ে তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থির করেছেন। ফলে, পদত্যাগের দিনেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সোমবার থেকেই কল্যাণ প্রাক্তন হতে চলা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কুকথার সুর চড়িয়ে রেখেছেন। কিন্তু, এদিন হাইকোর্ট চত্বরে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তুমুল উত্তেজনার আবহ তৈরি হতে চলেছে।
হাইকোর্ট চত্বরে এদিন দুপুরে নিজের বক্তব্য বলবেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ফলে হাইকোর্ট চত্বরে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূলপন্থী আইনজীবীরা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সাংবাদিক সম্মেলনের ঠিক উলটোদিকে দাঁড়িয়ে তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে পারেন।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, মাস্টারদার পায়ের নীচে দাঁড়িয়েই সব জবাব দেব। কারণ মাস্টারদার ফাঁসির যে অর্ডার হয়েছিল, তা এক সময় সই করেছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি। তিনি ব্রিটিশ ছিলেন। ক্ষুদিরামও তাই। হাইকোর্ট ভুল করেছিল, একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীকে ফাঁসি দেওয়া উচিত হয়নি। মাস্টারদার অবশ্য ফাঁসি হয়নি, ওনাকে আগেই মেরে ফেলা হয়েছিল বলে জানা যায়। যার সপক্ষে ডক্টর রাধাবিনোদ পাল টোকিও ট্রায়ালে বলেছিলেন, মাতৃভূমিকে রক্ষা করা কোনও ক্রাইম নয়। যে কারণে ডক্টর রাধাবিনোদ পালের মূর্তি আছে টোকিওতে। রাস্তা আছে তাঁর নামে জাপানে।
একজন বাঙালি মাথা উঁচু করে সে কথা বলে এসেছিলেন। আমি সে জন্যই মাস্টারদাকে প্রণাম জানিয়ে, মাস্টারদার পায়ের তলায় দাঁড়িয়ে এই কথাগুলি বলতে চাই। আর এতেই শেল বিঁধেছে তৃণমূল শিবিরে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এর আগে সরাসরি তৃণমূল নেত্রী তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এদিনও যাতে তিনি 'বিপ্লবী' আচরণ করতে না পারেন, তার জন্য চিৎকার-চেঁচামেচি করে অনুষ্ঠান বানচাল করে দিতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল শিবিরের আইনজীবীরা। তারা যে কোনও প্রকারে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাংবাদিক বৈঠক ভেস্তে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক উলটোদিকে দাঁড়িয়ে কল্যাণের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এখন পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় তার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।