দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেতাজি (netaji) সুভাষচন্দ্র বসুকে (subhas chandra basu) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের (calcutta high court)। নেতাজি জীবিত না মৃত, জানতে চেয়ে আদালতে জনস্বার্থ (pil)মামলা দায়ের করেছেন তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত, উদ্বুদ্ধ বলে দাবি করা জনৈক ব্যক্তি। তার পরিপ্রেক্ষিতে ৮ সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রকে (centre) (affidavit)হলফনামা দিয়ে জানাতে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ। ভারতীয় টাকায় নেতাজির ছবি ব্যবহার করা যাবে কিনা, তাও হলফনামায় কেন্দ্রকে জানাতে বলেছে বেঞ্চ।
আবেদনকারীর আইনজীবী রবীন্দ্র নারায়ণ দত্ত আদালতে সওয়াল করেন, দেশের জন্য নেতাজি জীবন দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ভারতীয় মুদ্রায় তাঁর ছবি ছাপানোর প্রস্তাব রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবে উৎসাহিত হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। সেই তথ্য আদালতে পেশ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর পাশাপাশি নেতাজি অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন সময়ে কমিশন গঠন করেছে। সেই কমিশন গঠনের ফলে সরকারি তহবিল নষ্ট হচ্ছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত অন্তর্ধান রহস্যের প্রকৃত উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। সরকারি অর্থের অপচয় না করে নেতাজি অন্তর্ধান রহস্যের প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করুক কেন্দ্র সরকার। আদালতের এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন।
আবেদনকারীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কেন্দ্রকে এই বিষয়ে স্পষ্ট হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে, নেতাজির অন্তর্ধান সম্পর্কে তাদের প্রকৃত অবস্থান কী।
প্রসঙ্গত, নেতাজি সম্পর্কিত কিছু ফাইল ইতিমধ্যে সামনে এলেও তাঁর মৃত্যু বা বেঁচে থাকা নিয়ে কোনও ফাইল প্রকাশ করা হয়নি। নেতাজির তাইহোকুর বিমান দুর্ঘটনায় সত্যিই মৃত্যু হয়েছিল কিনা, সে ব্যাপারে অসংখ্য প্রশ্ন, সংশয়, সন্দেহ, দাবি, পাল্টা দাবি রয়েছে, যার জট কাটানো যায়নি। আর বাঙালি মননে নেতাজিকে ঘিরে যে আবেগ, স্পর্শকাতরতা রয়েছে, তাতে তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্তে আসা সমীচীন নয়। তার মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ।