
ছাত্র সমাজের নবান্ন অভিযান।
শেষ আপডেট: 28 August 2024 00:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশের তরফে আগেই ছাত্র সমাজের মঙ্গলবারের অভিযানকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের তরফে যে দুটি রুটের কথা বলা হয়েছিল, সেই পথেও পুলিশি প্রস্তুতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নবান্নের সামনে গড়ে তোলা হয়েছিল দুর্ভেদ্য দূর্গ। আনা হয়েছিল কন্টেইনারও!
এত ঢাল, তলোয়ার থাকা সত্ত্বেও কোন কৌশলে নবান্নের ১০০ মিটারের মধ্যে পৌঁছে গেলেন আন্দোলনকারীরা? এনিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
পুলিশের তরফে দাবি করা হচ্ছে, যেহেতু ছাত্র সমাজের নামে এই অভিযান তাই পুলিশ প্রথম থেকেই সংযত থেকেছে। বরং পুলিশের একাধিক কর্তা, কর্মী আক্রান্ত হওয়ার পরও পুলিশ সেই সংযম ধরে রেখেছিল। পুলিশের এই সংযমী মনোভাবেরই সুযোগ নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। জাতীয় পতাকাকেও আন্দোলনকারীরা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা অবশ্য বলছেন, জাতীয় পতাকা তো ছিলই, সঙ্গে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পুলিশের ব্যারিকেডের দিকে এগিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। প্রথম দলের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে তখনই দ্বিতীয় দল সেখানে পৌঁছেছে। ফলে অধিকাংশ সময়ই পুলিশকে পড়তে হয়েছে অপ্রস্তুত পরিস্থিতির মুখোমুখি। এরই মাঝে বারে বারে আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশের একাধিক কর্তা, কর্মী।
পুলিশের এক কর্তাও বলেন, "আন্দোলনকারীরা অনেকগুলি ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে নবান্নের আশেপাশে পৌঁছেছিল। ফলে পুলিশ যখন একটি গ্রুপকে মোকাবিলা করতে ব্যস্ত তখন অপর গ্রুপটি সেখানে পৌঁছেছে। কিন্তু পড়ুয়া হওয়ায় প্রথম থেকেই তাঁদের সরাতে কোনও ধরনের কড়া পদক্ষেপ করা হয়নি।"
প্রসঙ্গত, আন্দোলনকারীরা যে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে নবান্নের আশেপাশে পৌঁছনোর চেষ্টা করতে পারে, সোমবার রাতেই এই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। কুণাল এদিন বলেন, "ওদের উদ্দেশ্য ছিল অশান্তি পাকানো। তাই শুরু থেকেই পুলিশকে আক্রমণ করে গেছে। তবু পুলিশ শান্ত থেকেছে, তা না হলে নবান্নের ধারেকাছেও ওরা পৌঁছতে পারত না।"