শেষ আপডেট: 7 January 2020 10:36
সাধারণত মানুষজন থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করে পশুপ্রাণীরা। মানুষ দেখলে বরং পালিয়ে যায় জঙ্গলের ভিতরে। কিন্তু এ বিপর্যয়ের অসহায়তা যেন বদলে দিয়েছে তাদের সেই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও। দমকলকর্মীদের কাছে জল চাইছে তারা। সাধারণ মানুষের কাছে চাইছে আশ্রয়, খাবার। প্রাণের ভয়ে তুচ্ছ হয়ে গেছে মানুষ-প্রাণীর দূরত্ব।
দু'সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দাবানলে জ্বলছে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলসের বিস্তীর্ণ বনভূমি। দমকা হাওয়ায় আগুন আরও বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। দমকলকর্মী ও উদ্ধারকারীরা কার্যত দিশাহীন। অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। অস্ট্রেলিয়ার কোনও কোনও এলাকার আকাশ লালচে ও অন্ধকার হয়ে গেছে এই আগুনের জেরে। তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অফ মেটিওরোলজি জানিয়েছে, ঝোড়ো হাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে দ্রুত। বৃষ্টি ছাড়া পরিত্রাণ পাওয়া মুশকিল। এখনও পর্যন্ত ধ্বংস হয়েছে ১২০০ ঘরবাড়ি। মারা গেছেন অন্তত ২৪ জন। তবে মাত্রাছাড়া ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রাণী জগতের। প্রায় ৫০ কোটি পশু-পাখি ঝলসে মারা গেছে। এই সংখ্যা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে।
পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে কয়েক হাজার কোয়ালা। বিলুপ্তপ্রায় এই কোয়ালা প্রজাতির বড় অংশ বাস করত অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চলে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে বহু দগ্ধ পশু-পাখির ছবি। বীভৎস সে ছবি দেখে শিউরে উঠছেন নেটিজেনরা। কোথাও আগুন থেকে বাঁচার জন্য দৌড়চ্ছে ক্যাঙারু। কোথাও একটু জলের জন্য আকুল হয়েছে ঝলসে যাওয়া কোয়ালা। গৃহপালিত জীবও মারা গেছে অনেক। দৌড়ে পালাতে দেখা গেছে একটি ঘোড়াকে। দেখা গেছে, জঙ্গলের বাইরে কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে রয়েছে একটি ক্যাঙারুর মৃতদেহ। কাকাতুয়া-সহ অনেক প্রজাতির পাখি মরে গাছের নীচে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
এই অবস্থায় মানুষের কাছেই শেষ আশ্রয় খুঁজছে বিপন্ন প্রাণীকুল। মানুষ দেখলেই তাদের জড়িয়ে ধরার একাধিক ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।