
শেষ আপডেট: 31 October 2023 21:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: শ্বশুরবাড়ি থেকে এক বধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল হীরাপুর থানার বার্নপুরের নিউটাউন ছোটদিঘারি এলাকায়। মৃত বধূর নাম পিয়ালি মাজি (২৪)। বাপের বাড়ির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মৃতের স্বামী সহ মোট ৫ জনকে আটক করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে আসানসোল জেলা হাসপাতালে বধূর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়।
জানা গিয়েছে, মৃতের ৪ বছরের মেয়ে রয়েছে। ওই শিশু মঙ্গলবার দুপুরে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে। সেখানে সে জানিয়েছে, তার বাবা, মাকে মারধর করত। সোমবার সন্ধেয় তাকে পড়াচ্ছিলেন পিয়ালি। তখন বাবা মাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। তারপর মাকে সে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় সে।
পরিবারে সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পাঁচেক আগে আসানসোলের বারাবনি থানার পানুরিয়ার বাসিন্দা পিয়ালি মাজির সঙ্গে হিরাপুর থানার বার্ণপুরের নিউটাউন ছোটদিঘারির বাসিন্দা ইস্কো কারখানার কর্মী সুমন মাজির বিয়ে হয়েছিল।
পিয়ালির বাবা বিশ্বনাথ মাজি অভিযোগ, বিয়েতে পণ হিসাবে নগদ আড়াই লক্ষ টাকা, একটি স্কুটি, সোনার গয়না সহ অন্যান্য জিনিস দেওয়া হয়েছিল সুমনকে। অভিযোগ, বিয়ের মাস কয়েক পর থেকে বাপেরবাড়ি থেকে আরও ৫ লক্ষ টাকা পণ আনার জন্য পিয়ালির উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু করে সুমন। কন্যার জন্ম দেওয়ার পরে সেই অত্যাচার আরও বেড়ে যায়। আরও অভিযোগ, মেয়েকে বড় করে তোলার জন্য পিয়ালিকে টাকা আনার জন্য বাপের বাড়ি থেকে আনার জন্য স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি চাপ দেওয়া শুরু করে।
জানা গিয়েছে, দূর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন স্ত্রী পিয়ালি ও ৪ বছরের মেয়ে দিশাকে বাপের বাড়িতে রেখে আসে স্বামী সুমন মাজি। শুক্রবার মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন পিয়ালি। এর মধ্যে পিয়ালি দুর্গাপুজোর সময়ে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে তোলা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে। সেই ছবি দেখে স্ত্রীকে সন্দেহ করতে শুরু করেছিল সুমন।
ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।