
শেষ আপডেট: 29 October 2023 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: নদিয়া মর্ডান রাইস মিলের পিছনে পাওয়া গেল বেশকিছু পোড়া নথি। এই ঘটনা ঘিরে রবিবার দুপুরে হরিণঘাটা থানা এলাকার সাত শিমুলিয়া এলাকা জুড়ে উত্তেজনা ছড়াল।
স্থানীয় সূত্রে থেকে জানা গিয়েছে, এই মিলের মালিক নাকি রেশন কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার বাকিবুর রহমান। কাগজপত্রগুলি কবে পোড়ানো হয়েছে, তা সঠিকভাবে বোঝা যাচ্ছে না। রবিবার এই ঘটনা স্থানীয়দের নজরে আসতেই সাড়া পড়ে যায় গোটা এলাকায়। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটাল তাই নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে। অনেকে অনুমান করছেন, প্রমাণ লোপাট করতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কাষ্ঠডাঙা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান গণেশ মণ্ডল জানিয়েছেন, এমন একটা খবর তিনি স্থানীয়দের মাধ্যমে পেয়েছেন। কিন্তু সেই নথি কীসের সেটা তিনি জানেন না।
এক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, এই রাইস মিলের পরিকল্পনা হয় ২০২২ সালে। নির্মল নামে এক স্থানীয় ব্যক্তি এই জমি কেনার জন্য বাকিবুরকে সাহায্য করেছিল। ওই সময় সঞ্জয় নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে রাইস মিলেন জমি কেনেন বাকিবুর।
রাইস মিল গড়ে ওঠার পরে রাস্তার পাশে থাকা চাষের জমি নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন চাষিরা। সেই সময় পঞ্চায়েতকে তাঁরা বিষয়টি নিয়ে নালিশ জানিয়েছিলেন। পঞ্চায়েতের লোকজনও তখন গ্রামের মানুষের পাশের দাঁড়ায়। কিন্তু কোনও এক মন্ত্রীর ফোন আসাতে পঞ্চায়েতও হাত তুলে নেয়।
সেই মন্ত্রী কে ছিলেন, তা জিজ্ঞাসা করায় এক বাসিন্দা বলেন, '' আমরা যতদূর জানি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক পঞ্চায়েতের উপপ্রধানকে ফোন করেছিলেন। সেখানে তিনি উপপ্রধানকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।''
গ্রামের মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা আগে থেকে ওই রাইস মিলে কোনও গোলমাল ঘটছে বলে আভাস পেয়েছিলেন। কিন্তু সঠিক প্রমাণ তাঁদের কাছে ছিল না।
এই বিষয় নিয়ে প্রধান গণেশ মণ্ডলকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, '' বাকিবুর রহমানকে আমি চোখেও দেখিনি, টিভিতে বর্তমানে দেখছি। বাকিবুরের রহমান নয়, ওনার পার্টনার বিনয় পাত্র আমার কাছে এসেছিলেন নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নেওয়ার জন্য। ওই সময় বিডিও সাহেবও আমাকে ফোন করেছিলেন। সেখানে বিডিও বলেছিলেন, এলাকায় কোনও কুটির শিল্প নেই। তাই রাইস মিল খুললে কর্মসংস্থান হবে। তাই আমি এনওসি দিয়ে দিয়েছিলাম।''