
শেষ আপডেট: 6 September 2023 09:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুগন্ধি মোমবাতি সংগ্রহ করার শখ অনেকেরই থাকে। সুগন্ধি দেওয়া নানা রঙের, আকারের মোমবাতি দিয়ে ঘর সাজানোর চল হয়েছে এখন। স্নানের সময়ে বেসিনের উপর কিংবা বাথটবের পাশে নানা ধরনের সুগন্ধিযুক্ত মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখার অভ্যাসও আছে অনেকের। এই শখই বিপদের কারণ হয়ে উঠছে না তো! নতুন গবেষণা দাবি করেছে, রান্নার ঝাঁঝ, সুগন্ধি মোমবাতি ও ধূপের ধোঁয়া একটানা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের ঢুকলে তার ফল হতে পারে মারাত্মক। হাঁপানির (asthma) এটাও অন্যতম কারণ।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সুগন্ধি মোমবাতি বা ধূপের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য এতে নানা ধরনের রাসায়নিক মেশানো থাকে। এই রাসায়নিক দেওয়া মোমবাতি জ্বালালে এমনটা হতেই পারে। এই ধরনের মোমবাতিতে প্রাকৃতিক মোমের বদলে ‘প্যারাফিন’ থাকে। যা আসলে পেট্রোলিয়ামজাত একটি দ্রব্য। এই প্যারাফিন ক্রমাগত শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকলে তা শ্বাসযন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু মোমবাতি নয়, সুগন্ধি ধূপ, মশার ধূপ-সহ এমন যে কোনও দাহ্য পদার্থ, যা পোড়ালে কালো ধোঁয়া নির্গত হয়, সেগুলি ব্যবহার না করাই ভাল। দীর্ঘ দিন ধরে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এই ধোঁয়া শরীরে পৌঁছতে থাকলে তা আদতে ফুসফুসের ক্ষতি করে। মোমবাতি বা ধূপের গন্ধে শুরু হওয়া সাময়িক অস্বস্তি থেকে কারও কারও হাঁপানি (asthma), এমনকি নিউমোনিয়া পর্যন্ত হতে পারে। আবার কারও সামান্য মাথাধরা গড়াতে পারে মাইগ্রেন পর্যন্ত। রান্নার ঝাঁঝও একটানা শ্বাসের সঙ্গে ঢুকলে তা ক্ষতি করতে পারে ফুসফুসের। উনুনের ধোঁয়া তো আছেই।
হাঁপানি বা অ্যাজমা অতি বিষম বস্তু। আক্রান্তেরা এর যন্ত্রণা বিলক্ষণ জানেন, আর যাঁরা অল্প ঠান্ডাতেই হাঁচি-কাশি-শ্বাসকষ্টে অস্থির তাঁরা মুঠো মুঠো ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি পেয়ে ভাবেন, এই তো অর্ধেক রোগ সেরেই গেল, তাঁদের জন্য সতর্কবার্তা-- হাঁপানিকে মোটেও খাটো করে দেখা উচিত নয়। এর ছোবল থেকে নিস্তার নেই, শুধু বশে রাখা সম্ভব। আর অবহেলা করলে ফল হতে পারে প্রাণঘাতী।
গোটা দেশেই দূষণ যেভাবে বাড়ছে তাতে হাঁপানি আরও প্রবলভাবে আসর জমিয়ে বসছে। দীপাবলি, ছটপুজোতে আতসবাজির বাড়বাড়ন্ত পেরিয়ে এখন শীতের কুয়াশা, গাড়ির ধোঁয়া, ফুলের রেণু, কালো ছায়ার মতো কার্বন-মনোক্সাইড সব মিলিয়ে প্রাণভরে শ্বাস নেওয়ার রাস্তাটুকুও বন্ধ।
শিশু হোক বা বয়স্ক, অ্যাজমার টান ওঠা মানেই আতঙ্ক। হাতের কাছে ইনহেলার না থাকলে আরও বিপদ। অল্প হাঁটলেই বুকে ব্যথা, ঘুমোতে গেলেই বুকের ভেতর যেন সাইরেন বাজছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন হাঁপানি কখনও একেবারে সাড়ে না। এর প্রকোপকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তার জন্য সামান্য কিছু নিয়ম মানলেই চলে। ধুলো, ধোঁয়া থেকে বাঁচতে হবে অবশ্যই। শ্বাসের রোগ বা সিওপিডি থাকলে বাইরে বেরোলে মাস্ক পরতেই হবে। ধূমপান অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়ায়। প্যাসিভ স্মোকাররাও কিন্তু সুরক্ষিত নন।
আট থেকে আশি যে কোনও বয়সেই অ্যাজমা হতে পারে। এদের প্রত্যেকেরই উচিত বাধ্যতামূলক ভাবে নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও চিকেন পক্সের টিকা নেওয়া। কেননা, হাঁপানির সঙ্গে সঙ্গে নিউমোনিয়া বা চিকেন পক্স হলে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার ঝুঁকি থাকে।