
শেষ আপডেট: 15 February 2024 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ভালবাসার দিনে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাপবাগ ক্যাম্পাসের আনাচকানাচে আঁকা হয় ভালবাসার খণ্ডচিত্র। তৈরি হয় এক অন্য প্রেমের কাহিনি। তবে এই প্রেম চেনা ছকের চেয়ে একটু আলাদা। বিয়ের মতো তত্ত্বের ডালি আদান প্রদানের মধ্যে দিয়ে বৃহস্পতিবার দিনভর গোটা ক্যাম্পাসে হই হুল্লোড়ে মাতল ছাত্রছাত্রীরা।
এমনিতে সরস্বতী পুজো মানেই বাঙালিদের কাছে একরকম ভ্যালেন্টাইন্স ডে। অর্থাৎ ভালোবাসার দিন। এবার তো আবার ভালবাসার দিনেই ছিল সরস্বতী পুজো। সে যাই হোক, সরস্বতী পুজোর পরের দিন পুরনো প্রথা মেনে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক পড়ুয়ারা তত্ত্বের ডালি সাজিয়ে, বাজনা বাজিয়ে একে অপরের সঙ্গে সৌহার্দ্য বিনিময় করলেন । বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাপবাগ চত্বরে রয়েছে একগুচ্ছ ছাত্রাবাস এবং ছাত্রীনিবাস। বছরের অন্যদিন ছাত্রাবাসে ছাত্রীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। ছাত্রীদের আবাসে ঢুকতে পারেন না ছাত্ররা। প্রথা মেনে সরস্বতী পুজোর পরের দিন ছাত্র-ছাত্রীরা তত্ত্ব নিয়ে একে অপরের হস্টেলে পৌঁছে যান। এই উৎসবের হাত ধরে মন দেওয়া নেওয়ার পালাও চলে। চকোলেট, মিষ্টি, ফুল ইত্যাদি উপহার দেওয়ার মোড়কে আসলে মনের মানুষকে মনের কথা জানানো। এ ভাবেই গার্গী, নিবেদিতা, সরোজিনী এবং মীরাবাঈ হস্টেলের কোনও ছাত্রীর সঙ্গে প্রতিবার মিলে যায় চিত্তরঞ্জন, অরবিন্দ, নেতাজি, বিবেকানন্দ এবং রবীন্দ্র ছাত্রাবাসের কোনও পড়ুয়ার মন।
গোলাপবাগ ক্যাম্পাসে সাতের দশক থেকে চলে আসছে সরস্বতী পুজোর পরদিন তত্ত্ব আদান-প্রদানের রীতি। এদিনও বেলা গড়াতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাপবাগ ক্যাম্পাসে দেখা গেল হাতে ফুল ও মিষ্টি দিয়ে সাজানো তত্ত্ব আদানপ্রদান। ঢাক, কাঁসর ঘণ্টা বাজিয়ে পড়ুয়ারা নাচতে নাচতে হাজির হয় ছাত্রী ও ছাত্রাবাসে। রঙবেরঙের শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরনে পড়ুয়ারা যেন বসন্তেরই দূত।
এই প্রথা কবে, কেন চালু হয়েছিল তা স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারেন না। তবে সকলেই এটা বলেন, পুজোর পরের দিন এই তত্ত্ব আদান প্রদানের মাধ্যমে মনের মানুষের একটু কাছাকাছি আসার সুযোগ হয়। সেই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না অনেকেই ।