দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত জুলাই মাসে উত্তর দিল্লির বুরারি অঞ্চলে এক বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় ১০ জনকে। আরও একজনের মৃতদেহ শোয়ানো ছিল খাটে। প্রথমে সকলের ধারণা হয়েছিল আত্মহত্যা। কিন্তু সাইকোলজিক্যাল অটোপ্সিতে জানা গিয়েছে, আত্মহত্যা নয়, দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ১১ জন। তাঁরা এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসাবে গলায় দড়ি দিয়েছিলেন। কেউ ভাবেননি এর ফলে মারা যাবেন।
কোনও ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তদন্তকারীরা অনেক সময় মৃতের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা বোঝার চেষ্টা করেন, মৃত্যুর আগে ওই ব্যক্তির মানসিক অবস্থা কেমন ছিল। একেই বলা হয় সাইকোলজিক্যাল অটপ্সি। বুরারিকাণ্ডে সাইকোলজিক্যাল অটপ্সির পাশাপাশি মৃতদের একজনের ডায়েরি ও কয়েকটি নোটও পেয়েছে পুলিশ। সেই ব্যক্তির নাম ললিত চূড়াওয়াত। তিনি দাবি করতেন, মৃত বাবার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আছে। তিনি মৃত বাবার নির্দেশ বলে পরিবারের অন্য সদস্যদের কিছু নিয়মকানুন মানতে বলতেন।
পুলিশের ধারণা, ললিতই অন্যদের বলেছিলেন, মুখে কাপড় ঢেকে গলায় দড়ি দিতে। তাঁর ধারণা ছিল, এর ফলে কেউ মরবে না। পরিবারের অন্যরাও সেকথা বিশ্বাস করেছিল।
মৃতদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে বড় ছিলেন নারায়ণী দেবী। তাঁর দেহটি খাটে শোয়ানো ছিল। যারা গলায় দড়ি দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে আছেন নারায়ণী দেবীর মেয়ে প্রতিভা, দুই ছেলে ভবনেশ ও ললিত, ভবনেশের স্ত্রী সবিতা ও তিন সন্তান মানেকা, নিতু ও ধীরেন্দ্র এবং ললিতের স্ত্রী টিনা ও তাঁর ছেলে দুষ্যন্ত। প্রতিভার মেয়ে প্রিয়াংকাও গলায় দড়ি দেন। তাঁর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। এই বছরের শেষেই বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।