দ্য ওয়াল ব্যুরো: “যত দিনই আটকে থাকুক ওরা, জীবিত উদ্ধার হবেই।”— এমনটাই বলেছিলেন তিনি।
বলা ভাল, ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। আর সেই বাণী ফলে গিয়েই যেন ১৭ দিন পরে অন্ধকার, ঠান্ডা, জলে ভরা ভয়াল গুহা থেকে আলোর মুখ দেখতে পেলেন সকলে। আর তাঁর ইতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণী এ ভাবে সফল হওয়ার পরে তাঁকে বিশেষ সম্মান জানানোর কথা ঘোষণা করেছেন থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্নই।
কে এই ভবিষ্যদ্রষ্টা ব্যক্তি?
তিনি থাইল্যান্ডের এক জন বৌদ্ধ ভিক্ষু তথা ধর্মগুরু, ফ্রা খুবা বুনচাম। দুর্ঘটনাস্থল অর্থাৎ থাম লুয়াং গুহার বাইরেই বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করতেন তিনি।
গত মাসের ২৩ তারিখে গুহার ভিতরে ১২ জন কিশোর ফুটবলারের একটি দল এবং তাদের কোচ একসঙ্গে জলবন্দি হয়ে পড়ার খবরে আশঙ্কায়, আতঙ্কে সিঁটিয়ে যায় গোটা দেশ। কিশোরদের বাবা মায়েরা দিশাহারা হয়ে পড়েন। এই অবস্থায় ওই ভিক্ষু জানান, ওই কিশোরদের আর তাদের কোচকে দু’দিনের মধ্যেই জীবিত খুঁজে পাওয়া যাবে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “তারা এখনও সেখানেই আছে, ভাল আছে। আগামী দু’দিনেরই তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে।”
দু’দিনে অবশ্য নয়, কয়েক দিন পরে, ২ জুলাই দু’জন ব্রিটিশ ডুবুরি গুহার বেশ কয়েক কিলোমিটার ভিতরে গিয়ে আটকে পড়া কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে খুঁজে পান। জীবিত অবস্থায়। এ কথা প্রকাশ্যে আসার পরেই থাইল্যান্ডবাসীর কাছে ব্যাপক পরিচিত হয়ে ওঠেন ওই বৌদ্ধ ভিক্ষু তথা ধর্মগুরু।
২৩ জুন কিশোরেরা নিখোঁজ হওয়ার পরেই গুহা এলাকা তিন বার ঘুরে দেখেন ফ্রা খুবা বুনচাম। বৌদ্ধ ধর্মীয় আচার পালন করেন, প্রার্থনা করেন। এই সময়েই ওই এলাকায় কয়েক দিন ধরে চলা বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে যায় আর নিখোঁজ কিশোরদের খুঁজেও পাওয়া যায়। এর পরে অনেকেই বিশ্বাস করে ফেলেন, বৃষ্টি বন্ধে ভূমিকা রয়েছে এই বৌদ্ধ ধর্মগুরুরই।
ধর্মগুরু ফ্রা খুবা বুনচাম থাইল্যান্ড, ভুটান আর চিনের শান প্রদেশের বিভিন্ন গুহায় ধ্যানমগ্ন থেকে বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন তিনি। চিনের শান প্রদেশে জন্ম নেওয়া এই ধর্মগুরু মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিভিন্ন বিষয়েই ভবিষ্যদ্ববাণী করা শুরু করেন। সে সব নাকি ফলতেও থাকে বলে।
বুনচামের ভক্তেরা জানিয়েছেন, থাইল্যান্ড ছাড়াও এই ধর্মগুরুর মায়ানমার ও লাওসে প্রচুর অনুগামী রয়েছেন। শুধু ফল আর বিস্কুট খেয়েই জীবনধারণ করে থাকেন এই ভিক্ষু। সব সময়ে হাঁটেন খালি পায়ে। মায়ানমারের জননেত্রী সুচি-ও তাঁর অনুসারী।
অভিযানের বিস্তারিত পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য রূপরেখা তৈরি করে আট তারিখে থাইল্যান্ড সরকার ওই কিশোরদের উদ্ধারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এক অভূতপূর্ব অভিযান শুরু করে। ওই দিন চার জনকে এবং সোমবার আরও চার জনকে উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল দশটা আট মিনিটে অবশিষ্ট পাঁচ জনকেও উদ্ধার করেন ১৯ জন ডুবুরি।