দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেকটা ভাল আছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। শনিবার বিকেলে উডল্যান্ডস হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা এখন সঙ্কটমুক্ত। তাঁর যে ঝুঁকি ছিল তা আপাতত কেটে গিয়েছে।
সন্ধের বুলেটিনে উডল্যান্ডস জানিয়েছে, বুদ্ধদেববাবু নিজে হাতে করে লিকার চা খেয়েছেন বিকেলে। সন্ধেবেলা তাঁকে স্যুপ দেওয়া হয়েছে। গতকাল থেকে তাঁর ফিজিওথেরেপি চলছিল। তারপর এদিন বেডের ধারে বসে পাও দুলিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
সিপিএমের এক নেতা বলেন, “যাক! বুদ্ধদা যখন চা খেতে পেরেছেন তখন নিশ্চয়ই মানসিক ভাবে চাঙ্গা হয়ে যাবেন!” কারণ তিনি চা প্রিয়। ভালবাসেন ব্ল্যাক কফিও। একটা সময়ে অত্যধিক ধূমপানও করতেন। ২০০৭-এ যখন তাঁর প্রথম সিওপিডির সমস্যা চাগাড় দিয়েছিল তখন এক চিকিৎসক তাঁকে বলেছিলেন, সিগারেট থামাতে হবে। বুদ্ধদেববাবু নাকি তাঁকে রসিকতা করে বলছিলেন, “প্লিজ ওটা বলবেন না!”
এদিন সকালেই হাসপাতাল জানিয়েছিল, শুক্রবার রাতে তাঁর ভাল ঘুম হয়েছে। সেই সঙ্গে আরও জানানো হয়, বুদ্ধদেববাবু সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছেন। তিনি স্বাভাবিক কথাবার্তাও বলছেন।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রায় ৭৬ বছর বয়স। অ্যাকিউট সিওপিডি রয়েছে তাঁর। দিন চারেক আগে প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বর্ষীয়ান সিপিএম নেতাকে। অক্সিজেন স্যাচুরেশন প্রায় ৬৮ তে নেমে গিয়েছিল। কিন্তু সেই বিপজ্জনক অবস্থা অনেকটা কেটেছে। বুদ্ধদেববাবুর এখন অক্সিজেন স্যাচুরেশনের মাত্রা ৯৮। এই বয়সের সিওপিডি আক্রান্তদের ক্ষেত্রে যা ভাল বলেই মত চিকিৎসকদের।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হিমোগ্লোবিন, ক্রিয়েটিনিন-সহ রক্তের একাধিক বিষয়ের মাপকাঠি স্বাভাবিক রয়েছে। রক্তচাপও স্বাভাবিক। ওঠানামা করছে না। তাঁকে নল দিয়ে খাবার দেওয়া হচ্ছে। তবে আজ রাতে তা খুলে দেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে চলবে বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক ও স্টেরয়েড।
গতকাল দুপুরেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট থেকে বের করে আনা হয়েছিল। তারপর তিনি স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য ও মেয়ে সুচেতনার সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছিলেন। খোঁজ নিয়েছিলেন তপনবাবুরও। বাড়িতে বুদ্ধদেববাবুর দেখাশোনা করেন জনৈক তপনবাবু।