
শেষ আপডেট: 9 May 2023 12:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সদ্য শেষ হয়েছ রাজ্যাভিষেক। লন্ডনের বাকিংহাম প্রাসাদের বর্তমান বড়কর্তা হয়েছেন তিনি, রাজা তৃতীয় চার্লস (King Charles)। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রপ্রধানরা। ছিলেন ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। বাকিংহাম প্রাসাদ (Buckingham Palace) জুড়ে উৎসবের আবহ। ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে উপস্থিত ছিলেন কয়েক হাজার অতিথি, ছিলেন অগণিত সাধারণ মানুষ।
আরও পড়ুনঃ অবশেষে ৭৪ বছর বয়সে মিলল ‘প্রোমোশন’, যুবরাজ থেকে রাজা হলেন চার্লস: একনজরে কিছু অজানা তথ্য
লন্ডনের বাকিংহাম প্রাসাদের নিজস্ব ইতিহাসও কিছু কম নয়। একেবারে শুরুতেই এত বিশাল প্রাসাদ নাকি ছিল না। ছিল ছোটখাটো এস্টেট। ১৬৯৮ সালে জন শেফিল্ড এই এস্টেটের লিজ নেন। পরে তিনি 'ডিউক অফ বাকিংহাম' পদে বসায় তাঁর বাসভবন হিসেবেই প্রথম বাকিংহাম প্রাসাদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। ডিজাইন করেছিলেন গৌরবময় বিপ্লবের সময়কার এক ফৌজি স্থপতি, ক্যাপ্টেন উইলিয়াম উইন্ড।

পরে হাতবদল হয়ে এই বাড়ি আসে রাজা তৃতীয় জর্জের হাতে, তিনি তাঁর রানি শার্লটের জন্য বাড়িটি কিনে নেন। নাম রাখেন 'রানির বাড়ি' বা 'দ্য ক্যুইনস হাউস'। উনিশ শতকে বাড়িটিকে ঢেলে সাজা হয়। প্রায় খোলনলচে বদলে, আড়ে-বহরে কিঞ্চিৎ বাড়িয়ে ১৮৩৭ সালে এই বাড়িটির প্রথম সরকারি বাসিন্দা হ'ন মহারানি ভিক্টোরিয়া। ব্রিটিশ রাজমুকুটের লন্ডনের আবাস হিসেবে বাকিংহাম প্রাসাদ আত্মপ্রকাশ করে।
আজ বাকিংহাম প্রাসাদের ভিতরে আছে ৭৭৫-টি ঘর। তার মধ্যে রয়েছে ১৯-টি 'স্টেট-রুম' বা রাষ্ট্রীয় কক্ষ, রাজপরিবারের সদস্য ও অতিথিদের জন্য ৫২-টি বেডরুম বা শয়নকক্ষ, কর্মীদের জন্য ১৮৮-টি শয়নকক্ষ, ৯২-টি অফিসঘর, ৭৮-টি বাথরুম!

মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারি প্রাসাদের নামে 'হাজারটা দুয়ার' আছে, কিন্তু আদতে ভেতরের বেশ কিছু দরজা আসলে নিপুণভাবে আঁকা। কিন্তু এই বাকিংহাম প্রাসাদে আক্ষরিক অর্থেই রয়েছে প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি আসল দরজা!
একটি ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডের মতে, ব্রিটেনের রাজপরিবারের সবচেয়ে খানদানি সম্পত্তি হল এই প্রাসাদ। হিসেব করলে প্রাসাদ ও তার আনুষঙ্গিক উদ্যান-সহ সমস্ত সম্পত্তির আজকের অর্থমূল্য প্রায় ৪.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪০ লাখ কোটি টাকা।

প্রাসাদের ভেতরে রয়েছে বলরুম, সিংহাসন-কক্ষ, ছবি আঁকার ঘর। বাকিংহাম প্রাসাদের বলরুমটাই সবচেয়ে বড়। প্রায় ৬৪৮ বর্গমিটারের এই বিশাল কক্ষ প্রতি গ্রীষ্মে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। তবে প্রাসাদের সবচেয়ে বিখ্যাত ঘর নিঃসন্দেহে ১৮৪৪ নম্বর কক্ষ। অনেকটা আমাদের নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসের মত গুরুত্ব এই ঘরের, এখানেই রাজা তাঁর প্রধান অতিথিদের আপ্যায়িত করেন।
আরও পড়ুনঃ রাজা চার্লসের অভিষেক: ওয়েস্টমিনস্টার থেকে বাকিংহাম, ১২ রোমহর্ষক তথ্য যা না জানলেই নয়
১৮৫১ সাল থেকে বাকিংহাম প্রাসাদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তার সুবিশাল বারান্দা। বিভিন্ন উৎসবে, অনুষ্ঠানে যেখানে দাঁড়িয়ে জনসাধারণের অভিবাদন গ্রহণ করেন রাজপরিবারের সদস্যরা। এই প্রথাও শুরু করেছিলেন রানি ভিক্টোরিয়া। ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যেও সম্রাট আকবর একইভাবে আগ্রার প্রাসাদের বারান্দা থেকে দর্শন দিতেন আমজনতাকে। যদিও বিশাল খোলা বারান্দার বদলে ব্যবহার করা হত বিশেষভাবে নির্মিত খোলা জানালা। যাকে বলা হত 'ঝরোখা'।
শুধু তাই নয়, বাকিংহাম প্রাসাদের মধ্যেই রয়েছে একটা নিজস্ব ডাকঘর এবং থানা।
সত্যিই, দুনিয়াজুড়ে কত রকম বিষ্ময়ই না রয়েছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে…!
আরও পড়ুনঃ কিছু অদ্ভুত নিয়ম যা ব্রিটেনের রাজপরিবারে থাকলে মানতেই হবে সবাইকে