দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকালই গরু পাচার কাণ্ডে বিএসএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট কম্যান্ড্যান্ট, ডেপুটি কম্যান্ড্যান্ট ব়্যাঙ্কের দুই অফিসার-সহ মোট ৪ জনকে তলব করে সিবিআই। আজ মঙ্গলবার, নিজাম প্যালেসে হাজিরা দেন দুই বিএসএফ আধিকারিক। জানা গেছে, প্রয়োজনে গরু পাচার চক্রের মূল পাণ্ডা এনামুলকে এই অফিসারদের সামনাসামনি বসিয়ে জেরা করতে পারে সিবিআই। কম্যান্ড্যান্ট ব়্যাঙ্কের বিএসএফ অফিসারদের নাম-পরিচয় কিছুই জানানো হয়নি সিবিআইয়ের তরফে।
জানা গেছিল, যে চার জনকে তলব করা হয়েছে তাঁরা সকলেই এক সময়ে মুর্শিদাবাদ-সহ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় কর্মরত ছিলেন। সে সময়েই এনামুলের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল বলে অনুমান। বড়সড় চক্র ফেঁদে চলত গরু পাচার।
সিবিআই সূত্রের মতে, বিএসএফ কমান্ড্যান্টেদের এই একের পর এক গ্রেফতারি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ গরু পাচারের যে বিশাল জাল, তাতে শুধু নিচুতলার বিএসএফ কর্তারাই জড়িত নয়। বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের অনেকে জড়িয়ে থাকতে পারেন এতে। ফলে এই গ্রেফতার আরও বড় চক্রের হদিস দিতে পারে।
ইতিমধ্যেই এক বিএসএফ অফিসার সতীশ কুমারকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। গত মাসের ১৭ তারিখে ম্যারাথন জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি সিবিআই। তারও আগে সেপ্টেম্বর মাসে সতীশ কুমারের সল্টলেকের বাড়িতে প্রথম হানা দিয়েছিলেন সিবিআই আধিকারিকরা। এর পরে তাঁর বাড়ি এবং মানিকতলার এক ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির আধিকারিকরা। সতীশ কুমার ধরা পড়ার পরে অনেকেই বলেছিলেন, তাঁর সূত্র ধরে আরও ধরপাকড়ের সম্ভাবনা তৈরি হল।
সেটাই সত্যি হয়েছে।
তবে সবার আগে গরু পাচার কাণ্ডে মুর্শিদাবাদের ব্যবসায়ী এনামুল হককেই গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। নানা টালবাহানার পরে দিন তিনেক আগে আসানসোলের সিবিআই আদালতে আত্মসমর্পণ করে গরু পাচার কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত এনামুল। ওই দিনই আবার আসানসোলের সিবিআই আদালতে পেশ করা হয় ধৃত বিএসএফ কমান্ড্যান্ট সতীশকুমারকে।
সেপ্টেম্বর থেকেই রাজ্যে গরু পাচার নিয়ে সক্রিয় হয় সিবিআই। মালদহ ও মুর্শিদাবাদের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চলে, সল্টলেকেও আসেন সিবিআই কর্তারা। জানা গিয়েছিল, এনামুলদের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে বিএসএফ ও কাস্টমসের এক শ্রেণির কর্তার। শুধু তাই নয়। এও জানা গিয়েছিল, গরুগুলিকে আটক করার পর তার সাইজ ছোট করে দেখানো হত। সেই সময়েই অনেকে বলেছিলেন, কাদের বল-ভরসায় এনামুলরা এই পাচার চক্র চালাত তা খতিয়ে দেখতে চাইবে সিবিআই। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক ছাতা না থাকলে এই কারবার চালানো সম্ভব নয়।