দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিপদটা আগে আঁচ করা যায়নি। মার্চ-এপ্রিলে ইতালি, স্পেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করোনা যখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, মৃত্যু হচ্ছে হাজারে হাজারে, ফুটবলের দেশ তখন অনেকটা নিশ্চিন্তেই ছিল। এপ্রিলের শেষ থেকে করোনার কোপ শুরু হয়। মে কাটিয়ে জুনের গোড়ায় এসে ব্রাজিলে এখন করোনা লাগামছাড়া। বিশ্বের করোনা সংক্রামিত দেশগুলির তালিকায় ব্রিটেন, রাশিয়াকে ছাড়িয়ে দু’নম্বরে চলে এসেছে লাতিন আমেরিকার এই দেশ।
জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির পরিসংখ্যাণ দেখলে বোঝা যাবে, আজ, শুক্রবারই নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে হাজারের বেশি। গত কয়েকদিনে এক লাফে সংক্রামিত বেড়েছে ২৫ হাজার ৯৮২। ব্রাজিলে এখন সংক্রামিতের মোট সংখ্যা আজকের হিসেবে ৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৪। একদিনে ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৯০৯ জনের। দেশে এখন অবধি করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪১ হাজারের বেশি।
দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে, সাও পাওলো এবং রিও ডি জেনিরো করোনার ভরকেন্দ্র বা এপিসেন্টার হয়ে উঠেছে। করোনা সংক্রমণের হার বেশি দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলে। সংক্রমণে অধিকাংশ মৃত্যুই হয়েছে সেখানে। শুরুতে কম থাকলেও এখন ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলেও।
সংক্রমণের হার বৃদ্ধির জন্য প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর উপরেই দোষ চাপিয়েছেন অনেকে। অভিযোগ, শুরুতেই সতর্ক হলে এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর সাও পাওলোর আকাশ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গিয়েছে, কবরস্থানগুলিতে সার দিয়ে মাটি খুঁড়ে জায়গা তৈরি করা হচ্ছে গণকবর দেওয়ার জন্য।
দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রক করোনা সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যার যে রিপোর্ট দিয়েছে তার থেকে বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি বলেই দাবি করা হয়েছে। দক্ষিণ ব্রাজিলের পেলোটাস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, দেশের ১২০টি শহরে সংক্রামিতের সংখ্যা অনেক বেশি। রিও ডি জেনিরোতেই সংক্রামিতের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার।
দেশের হেলথ সার্ভিলেন্স এজেন্সি অ্যানভিসা ও সাও পাওলোর ফেডারেল ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে অক্সফোর্ডের ডিএনএ ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু হওয়ার কথা এ মাসেই। অ্যানভিসা জানিয়েছে, ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের জন্য দু’হাজার জনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে অ্যাস্ট্রোজেনেকার ইউনিটে তৈরি হচ্ছে এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট। তত্ত্বাবধানে রয়েছে অক্সফোর্ডের টিম।