দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর দু’দিন। এর মধ্যেই ব্রাজ়িলে এসে পড়েছে ‘লাভার্স ডে’। এক দিকে নিজের দেশের বিশ্বকাপের এক অন্যতম সেরা দল হিসেবে জায়গা করে নেওয়ার আনন্দ, অন্য দিকে প্রেমের উন্মাদনা। দুইয়ে মিলে ফুটছে ব্রাজ়িল।
সারা পৃথিবীতে ভালবাসা দিবস পালিত হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে। কিন্তু ব্রাজ়িলে এই দিনটিই উদযাপরিত হয় জুন মাসের ১২ তারিখে। বিশকাপ মরসুমে ফুটবল-পাগল দেশে এই দিনটা যেন “সবুজ-হলুদ যৌন দিবস”! খেলোয়াড় থেকে দেহ-ব্যবসায়ী— এই দিন দেশ জুড়ে বাঁধ ভাঙে সব প্রেমেরই।
ব্রাজ়িলের ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ এরোটিক মার্কেট ফার্মস’ ইতিমধ্যেই মনে করিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপের আগাম জ্বর যতই বাড়ুক, ফুটবল নিয়ে উত্তেজনার তোড়ে মানুষ যেন ‘ভালোবাসার' কথা ভুলে না যান৷ এই ভুলে না যাওয়া নিশ্চিত করতেই বোধ হয় ব্রাজ়িলের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে কনডোম বিতরণ করা হচ্ছে। এক দিকে যেমন মনে করিয়ে দেওয়া হবে প্রেমের কথা, আবার এইডসের মতো যৌন-রোগ নিয়ে সচেতনতাও বাড়ানো হবে।
শুধু তা-ই নয়। দক্ষিণ আমেরিকায় ‘সেক্স টয়’ তৈরির সব চেয়ে বেশি সংখ্যক কারখানা রয়েছে এই ব্রাজ়িলেই। সারা বিশ্বেও এই ‘খেলনার’ অন্যতম বড় বাজার এই ব্রাজ়িলেই। বিশ্বকাপের মরসুমে বেড়ে ওঠা উন্মাদনায় একধাক্কায় বেড়ে যায় সেই ব্যবসাও।
আজই লাভার্স ডে উপলক্ষে বান্ধবীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি পোস্ট করে কৌতূহলের কেন্দ্র দখল করেছেন ব্রাজ়িলের ফুটবল তারকা নেইমার। ব্রাজ়িলের প্রাক্তন ফুটবলার রবার্তো কার্লোসও বান্ধবীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ভালবাসা দিবসের।
বস্তুত, ব্রাজ়িলে কোথাও একটা গিয়ে এক হয়ে যায় ফুটবল এবং প্রেম, প্রেম এবং যৌনতা। তাই প্রেমিক-প্রেমিকাদের উষ্ণ সপ্তাহান্ত কাটানোর জন্য শহর ও শহরতলির সমস্ত হোটেলের প্রতিটি কামরার টিভিতে আর কিছু না থাকলেও, স্পোর্টস চ্যানেল রাখা বাধ্যতামূলক৷ শোনা যায়, খেলার মরসুমে নাকি অফিস-কাছারি, পথঘাট, বাড়িঘর সব খালি হয়ে যায় সেখানে। ভরে ওঠে হোটেলগুলি। সঙ্গী বা সঙ্গিনী নিয়ে সেখানেই খেলা দেখার আনন্দ নেন ব্রাজ়িলবাসী৷
কারণ সেখানে শোনা যায়, খেলার প্রথম ও দ্বিতীয়ার্ধ, শেষ হওয়ার পরে নাকি ‘তৃতীয়ার্ধ' শুরু হয় হোটেলের শয্যায়। আর এই রীতির উপরেই বিশ্বকাপ মরসুমে চড়চড়িয়ে বাড়ে হোটেল-মালিক থেকে শুরু করে যৌন-পণ্যের ব্যবসা৷