
শেষ আপডেট: 16 December 2023 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে ফের সংঘাতের আবহে নবান্ন বনাম রাজভবন। শুক্রবার রাজভবনের তরফে বিশ্ববিদ্য়ালয়গুলিকে চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়, অন্তর্বর্তী উপাচার্যরাও বৈঠক ডাকতে পারেন!
আদালতের হস্তক্ষেপে সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তারই মাঝে রাজ্যপালের এমন চিঠির কথা শুনে ক্ষুব্ধ শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ব্রাত্য বলেন, "রাজ্যপালের স্পর্ধা দেখে আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি। দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলছেন এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সেখানে উনি রাজ্য সরকারকে এই ভাবে অগ্রাহ্য করার স্পর্ধা পাচ্ছেন কী করে? উনি তো মুখ্যমন্ত্রীকে অগ্রাহ্য করছেন।" বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আইনি পরামর্শ নেবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
উপাচার্য নিয়োগকে ঘিরে সম্প্রতি রাজ্য বনাম রাজ্যপালের বিবাদ চরমে পৌঁছেছিল। বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। রাজ্যের তরফে বিশ্ববিদ্য়ালয়গুলিকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়, অস্থায়ী উপাচার্যরা কর্মসমিতির বৈঠক ডাকতে পারবেন না। রাজ্যের বক্তব্যকে মান্যতা দিয়েছিল শীর্ষ আদালতও।
সূত্রের খবর, এরই মাঝে সম্প্রতি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য কর্ম সমিতির বৈঠক ডেকে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত পাশ করিয়ে নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, ছাত্রস্বার্থ রক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ। এরপরই রাজ্যপালের তরফে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, অন্তর্বর্তী উপাচার্যরাও বৈঠক ডাকতে পারেন। তারই জেরে নতুন করে সংঘাতের আবহে নবান্ন বনাম রাজভবন।
গত ১ ডিসেম্বর শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়, উপাচার্য নিয়োগের সমাধান করতে হবে রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রীকেই। এ ব্যাপারে দু’পক্ষকে দ্রুত বৈঠকে বসার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।
আদালতের নির্দেশ মেনে গত ৪ ডিসেম্ব চা-বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপাল। বৈঠক ভাল হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি গত বুধবার সল্টলেকে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পরিদর্শনে গিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস জানিয়েছিলেন, “উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজভবন নতুন করে কোনও বিতর্ক চায় না। এব্যাপারে শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মতি জানাবে রাজভবন।”
ফলে সংঘাত মিটে সমাধানের আশা দেখছিল শিক্ষামহল। তারপরও রাজভবনের এমন চিঠি কেন, তা নিয়ে ধন্দে সংশ্লিষ্ট মহলও।