
শেষ আপডেট: 24 January 2024 23:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জল থেকে ব্রেনে ঢুকেছে অ্যামিবা?
প্রাণীটি এককোষী। খালি চোখে ধরা দেয় না মোটেও। এমনিতে তাকে নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু যদি নাক দিয়ে কোনও ভাবে শরীরে প্রবেশ করে, তাহলে মগজের দফারফা না করে সে ছাড়বে না। স্নায়ুকোষ ছিন্নভিন্ন করবে নিমেষে। শিশু হলে তৎক্ষণাৎ মৃত্যু, প্রাপ্তবয়স্ক হলে খানিকক্ষণ খাবি খেয়ে প্রাণ ত্যাগ। ব্রেন-খেকো অ্যামিবার প্রকোপে প্রাণ হারাতে বসেছিলেন প্রৌঢ়। নাক বা কান দিয়ে ঢুকে তাঁর মগজ কুরে কুরে খাচ্ছিল এই পরজীবী। শেষে অ্যামিবা বের করে প্রৌঢ়ের প্রাণ বাঁচিয়েছে কলকাতার পিজি হাসপাতাল।
দেউলটির দীপঙ্কর ভৌমিকের ব্রেনে হানা দিয়েছিলেন মগজ-খেকো অ্যামিবা। কীভাবে তাঁর শরীরে অ্যামিবার সংক্রমণ হল তা অবশ্য স্পষ্ট করে বলতে পারেননি পরিবারের লোকজন। তাঁরা বলছেন, একদিন কিছু সময়ের জন্য পুকুরে নেমেছিলেন দীপঙ্করবাবু। তারপর থেকেই তাঁর ভয়ানক মাথার যন্ত্রণা শুরু হয়। ঘন ঘন বমি হতে থাকে।
রোগীর স্ত্রী মিঠু এবং ছেলে বিশ্বরূপ বলছেন, কিছুদিন আগে হঠাৎ তাঁর কানে ব্যথা শুরু হয়। তারপর বমি করতে থাকেন তিনি। ধূম জ্বরে বারে বারেই অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলেন। উলুবেড়িয়ার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। সেখানে কোনও সুরাহা না হওয়ায় তাঁকে নিয়ে পিজিতে চলে আসেন তাঁরা। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করেই বোঝেন, ব্রেনে অ্যামিবার সংক্রমণ হয়েছে। পুকুরের জল থেকেই দীপঙ্করবাবুর শরীরে পরজীবীর সংক্রমণ হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
পিজির সিসিইউ চিকিৎসকরা বলছেন, অ্যাকানথ্যামিবা নামের একধরনের অ্যামিবার সংক্রমণ হয়েছিল দীপঙ্করবাবুর। যে প্রাণঘাতী সংক্রমণ হয়েছিল, তার নাম ‘প্রাইমারি অ্যামিওবিক মেনিনগো এনসেফেলাইটিস’। অ্যামিবা কোনওভাবে মস্তিষ্কে ঢুকে মারাত্মক ক্ষতি করতে থাকে তাঁর। ব্রেনে পুঁজ জমে যায়। স্ট্রোকে শরীর প্রায় পঙ্গু হতে বসেছিল। বোটা ব্রেনে ছড়িয়ে গিয়েছিল সংক্রমণ। তাঁকে ভেন্টিলেশনেও দিতে হয়েছিল। ক্রিটিক্যাল কেয়ার, নিউরোলজি, নিউরোসার্জারি এবং মেডিসিন—এই চার বিভাগের চিকিৎসকরা মেডিক্যাল টিম তৈরি করে দফায় দফায় চিকিৎসা করছিলেন তাঁর। অনেকবার ব্রেনে সার্জারি করা হয়। শেষ পর্যন্ত অ্যামিবার সংক্রমণ নির্মূল করে প্রাণ বাঁচে রোগীর।
ডাক্তারবাবুরা বলছেন, নদী, পুকুর হ্রদ থেকে সুইমিং পুল, যে কোনও জলেই এদের অবাধ বাস। উষ্ণ জল হলে তো কথাই নেই। দ্রুত বংশবৃদ্ধি থুড়ি কোষ বিভাজন করে অ্যামিবারা। শিল্পাঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায়, দূষিত জলেও দেখা মেলে এদের। দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করা সুইমিং পুল বা ক্লোরিনেটেড নয় এমন বদ্ধ জলে দ্রুত ছড়ায় অ্যামিবারা। এককোষী হলেও এদের প্রভাব মারাত্মক। মানুষের স্নায়ুকোষকে নিমেষে জখম করতে পারে এই অ্যামিবারা। কোনও ভাবে জলের মাধ্যমে এই প্রাণীকে গিলে ফেললে ততটা ক্ষতি হয়না। তবে কোনও ভাবে নাক দিয়ে যদি সে শরীরে এন্ট্রি পায় তাহলেই এরা ভয়ঙ্কর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশির খিঁচুনি দিয়ে উপসর্গ শুরু হয়। দ্রুত অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ড্রাগ না দিলে মস্তিষ্কের কোষ ছিঁড়েখুঁড়ে দেয় এই প্রাণীরা। এই ধরনের মগজ-খেকো অ্যামিবার সংক্রমণ হলে বাঁচার আশা ক্ষীণ হয়ে যায়।