Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

ভারতের 'ব্রাহ্মস' টেক্কা দিয়েছে চিনকে, সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল শক্তিশালী অস্ত্র লাদাখ সীমান্তে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়া যে মাঝারি পাল্লার সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল বানিয়েছিল, দেশীয় প্রযুক্তিতে তারই উন্নত সংস্করণ হল ব্রাহ্মস। শব্দের চেয়ে দ্রুত গতি। যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন থেকে হেলিকপ্টার, অ্যাটাক কপ্টার তার ত্রিসীমানায় আসা শত্রুপ

ভারতের 'ব্রাহ্মস' টেক্কা দিয়েছে চিনকে, সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল শক্তিশালী অস্ত্র লাদাখ সীমান্তে

শেষ আপডেট: 5 July 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়া যে মাঝারি পাল্লার সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল বানিয়েছিল, দেশীয় প্রযুক্তিতে তারই উন্নত সংস্করণ হল ব্রাহ্মস। শব্দের চেয়ে দ্রুত গতি। যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন থেকে হেলিকপ্টার, অ্যাটাক কপ্টার তার ত্রিসীমানায় আসা শত্রুপক্ষের যে কোনও সামরিক অস্ত্রকে নিমেষে ধ্বংস করতে পারে ব্রাহ্মস। ভূমি, আকাশ, জল তিন জায়গায় থেকেই ছোড়া যায় এই ক্ষেপণাস্ত্র। এর বেগ এতটাই বেশি যে একবার টার্গেটের দিকে ধাওয়া করলে মাঝপথে তাকে থামিয়ে দেওয়া প্রায় অসম্ভব। বিশ্বের অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী এই ক্ষেপণাস্ত্রই আছে ভারতের হাতে। শক্তিতে ও প্রযুক্তিতে যা টেক্কা দিয়েছে আমেরিকা ও চিনের ক্রুজ মিসাইলকেও। পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তাপ যেভাবে বাড়ছে তাতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রস্তুতি দরকার ভারতের। লাদাখে ইতিমধ্যেই কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস টু এয়ার মিসাইল মোতায়েন করেছে ভারত। এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে আরও মজবুত করতে ডিআরডিও (ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন)-র থেকে বিয়ন্ড ভিসুয়াল রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার ‘অস্ত্র’ মিসাইল এবং সারফেস-টু-সারফেস ল্যান্ড অ্যাটাক  ‘নির্ভয়’ ক্রুজ মিসাইল কেনার ব্যাপারে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। রাশিয়ার থেকে আসছে সুখোই-৩০ এমকেআই ফাইটার জেট। সুখোইয়ের এই ভ্যারিয়ান্ট থেকে ছোড়া যায় ব্রাহ্মস মিসাইল। তাছাড়া ভারতের তৈরি সুখোইয়ের নয়া ভার্সন থেকেও ব্রাহ্মস নিক্ষেপ করার প্রযুক্তি রয়েছে। [caption id="attachment_236839" align="alignnone" width="760"] সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ব্রাহ্মস[/caption]

রাশিয়ার ব্রাহ্মসের পাল্লা কম, দেশীয় প্রযুক্তিতে তাই হয়ে উঠেছে ক্ষিপ্র

রাশিয়ার এনপিওএম সংস্থার তৈরি ব্রাহ্মস ক্রুজ মিসাইল মাঝারি পাল্লার। রাশিয়া বাহিনী হাতে এই মাঝারি পাল্লার ব্রাহ্মসই আছে। কিন্তু ভারতের ডিআরডিও এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা আরও বাড়িয়ে তাকে ক্ষিপ্র ও বিধ্বংসী করে তুলেছে। ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে থাকা ব্রাহ্মস পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুতগতির অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল। এটি সারফেস-টু-সারফেস, এয়ার-টু-সারফেস এবং যুদ্ধজাহাজ থেকেও ছোড়া যায়। ল্যান্ড লঞ্চড, শিপ লঞ্চড ও এয়ার লঞ্চড ভ্যারিয়ান্ট রয়েছে। ব্রাহ্মসের হাইপারসনিক ভার্সন ব্রাহ্মস-২ নিয়ে কাজ চলছে। [caption id="attachment_236841" align="alignnone" width="700"] ব্রাহ্মস এয়ার-ভ্যারিয়ান্ট[/caption] ১৯৮৭ সালে মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম (এমটিসিআর) নামে একটি সংগঠন তৈরি হয়। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা দেশগুলি এই সংগঠন তৈরি করে। ভারত সেই সময় এই সংগঠনে ছিল না। এরপরে যুদ্ধাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিতে ভারত এতটাই অগ্রসর হয় যে ২০১৬ সালে এমটিসিআরের সদস্য হয়। এরপরেই সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের আধুনিকীকরণে একসঙ্গে যোগ দেয় ভারত ও রাশিয়া। গত বছর ব্রাহ্মসের নতুন ভ্যারিয়ান্টের পাল্লা বাড়িয়ে ৫০০ কিলোমিটার করেছিল ভারত। বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই ক্রুজ মিসাইলের পাল্লা ৬০০ কিলোমিটারের বেশি রাখার চেষ্টা করার হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাহ্মসের নতুন প্রজন্ম শুধু দুরন্ত গতিতে ছুটবেই না একেবারে লক্ষ্যবস্তুর নাকের ডগায় গিয়ে আঘাত করবে।

আমেরিকা ও চিনের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকেও হারিয়ে দিয়েছে ভারতের ব্রাহ্মস

তিন হাজার কিলোগ্রাম ওজনের ব্রাহ্মস লম্বায় প্রায় ২৮ ফুট। তবে এর এয়ার-লঞ্চড ভার্সনের ওজন আড়াই হাজার কিলোগ্রামের কাছাকাছি। ২০০ কিলোগ্রাম ওজনের ওয়ারহেড রয়েছে। এটি নিক্ষেপ করার জন্য রয়েছে সলিড রকেট বুস্টার ইঞ্জিন (প্রথম দফায়) ও লিকুইড র‍্যামজেট ইঞ্জিন। [caption id="attachment_236844" align="alignnone" width="670"] ব্রাহ্মস ন্যাভাল ভ্যারিয়ান্ট[/caption] ব্রাহ্মস একই সঙ্গে ক্রুজ মিসাইল, এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ মিসাইল, অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, ল্যান্ড অ্যাটাক ও সারফেস-টু-সারফেস মিসাইল। প্রতিরক্ষার তিন স্তম্ভ স্থলবাহিনী, বায়ুসেনা ও নৌবাহিনীর হাতে রয়েছে ব্রাহ্মস। এর গতি ঘণ্টায় ৩৭০০ কিলোমিটার। সেখানে মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র টোমাহকের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯০ কিলোমিটার। ভারতের ব্রাহ্মসের গতি এর চার গুণ। ২০০১ সালে প্রথম চাঁদিপুর থেকে ব্রাহ্মসের সারফেস-টু-সারফেস ভ্যারিয়ান্টের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ হয়েছিল। ২০০৮ সালে এর ল্যান্ড অ্যাটাক ভ্যারিয়ান্ট টেস্ট করে ভারতীয় বাহিনী। আইএনএস রাজপুত থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল সেই মিসাইল। সঠিক নিশানায় গিয়ে সেটি লক্ষ্যবস্তুকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। এরপরে ধারাবাহিকভাবে ব্রাহ্মসের টেস্ট হতে থাকে। ২০১০ সালে শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে ছুটে বিশ্বের প্রথম সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল হিসেবে রেকর্ড করে ব্রাহ্মস। [caption id="attachment_236845" align="alignnone" width="670"] ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল ব্রাহ্মস[/caption] সাবমেরিন থেকে ব্রাহ্মসের প্রথম পরীক্ষামূলক নিক্ষেপ হয় ২০১৩ সালে, বিশাখাপত্তনমে। ২০১৬ সাল থেকে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগেই সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করার মতো ব্রাহ্মসের ভ্যারিয়ান্ট তৈরি করে ফেলে ডিআরডিও। এর এয়ার-লঞ্চড ভ্যারিয়ান্ট ব্রাহ্মস-এ (BrahMos-A) নিক্ষেপ করা যায় সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে। ব্রাহ্মসের এয়ার-ভ্যারিয়ান্টের পাল্লা ৪০০ কিলোমিটার। ২০১৫ সাল থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে রয়েছে ব্রাহ্মসের এয়ার-ভ্যারিয়ান্ট। ২০১৬ সালে নাসিকের এয়ারবেস থেকে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড তথা হ্যালের বানানো সুখোই-৩০ এমকেআইয়ের সঙ্গে ব্রাহ্মস-এ জুড়ে টেস্ট-ফ্লাইট করানো হয়েছিল। রাশিয়ার থেকে যে সুখোইয়ের নয়া ভার্সন পেতে চলেছে ভারত, তার থেকেও ব্রাহ্মস মিসাইল নিক্ষেপ করা যাবে। চিনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার আবগে যা ভারতের অন্যতম বড় হাতিয়ার হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

```