
শেষ আপডেট: 5 July 2020 18:30
সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ব্রাহ্মস[/caption]
ব্রাহ্মস এয়ার-ভ্যারিয়ান্ট[/caption]
১৯৮৭ সালে মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম (এমটিসিআর) নামে একটি সংগঠন তৈরি হয়। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা দেশগুলি এই সংগঠন তৈরি করে। ভারত সেই সময় এই সংগঠনে ছিল না। এরপরে যুদ্ধাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিতে ভারত এতটাই অগ্রসর হয় যে ২০১৬ সালে এমটিসিআরের সদস্য হয়। এরপরেই সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের আধুনিকীকরণে একসঙ্গে যোগ দেয় ভারত ও রাশিয়া। গত বছর ব্রাহ্মসের নতুন ভ্যারিয়ান্টের পাল্লা বাড়িয়ে ৫০০ কিলোমিটার করেছিল ভারত। বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই ক্রুজ মিসাইলের পাল্লা ৬০০ কিলোমিটারের বেশি রাখার চেষ্টা করার হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাহ্মসের নতুন প্রজন্ম শুধু দুরন্ত গতিতে ছুটবেই না একেবারে লক্ষ্যবস্তুর নাকের ডগায় গিয়ে আঘাত করবে।
ব্রাহ্মস ন্যাভাল ভ্যারিয়ান্ট[/caption]
ব্রাহ্মস একই সঙ্গে ক্রুজ মিসাইল, এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ মিসাইল, অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, ল্যান্ড অ্যাটাক ও সারফেস-টু-সারফেস মিসাইল। প্রতিরক্ষার তিন স্তম্ভ স্থলবাহিনী, বায়ুসেনা ও নৌবাহিনীর হাতে রয়েছে ব্রাহ্মস। এর গতি ঘণ্টায় ৩৭০০ কিলোমিটার। সেখানে মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র টোমাহকের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯০ কিলোমিটার। ভারতের ব্রাহ্মসের গতি এর চার গুণ।
২০০১ সালে প্রথম চাঁদিপুর থেকে ব্রাহ্মসের সারফেস-টু-সারফেস ভ্যারিয়ান্টের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ হয়েছিল। ২০০৮ সালে এর ল্যান্ড অ্যাটাক ভ্যারিয়ান্ট টেস্ট করে ভারতীয় বাহিনী। আইএনএস রাজপুত থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল সেই মিসাইল। সঠিক নিশানায় গিয়ে সেটি লক্ষ্যবস্তুকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। এরপরে ধারাবাহিকভাবে ব্রাহ্মসের টেস্ট হতে থাকে। ২০১০ সালে শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে ছুটে বিশ্বের প্রথম সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল হিসেবে রেকর্ড করে ব্রাহ্মস।
[caption id="attachment_236845" align="alignnone" width="670"]
ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল ব্রাহ্মস[/caption]
সাবমেরিন থেকে ব্রাহ্মসের প্রথম পরীক্ষামূলক নিক্ষেপ হয় ২০১৩ সালে, বিশাখাপত্তনমে। ২০১৬ সাল থেকে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগেই সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করার মতো ব্রাহ্মসের ভ্যারিয়ান্ট তৈরি করে ফেলে ডিআরডিও।
এর এয়ার-লঞ্চড ভ্যারিয়ান্ট ব্রাহ্মস-এ (BrahMos-A) নিক্ষেপ করা যায় সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে। ব্রাহ্মসের এয়ার-ভ্যারিয়ান্টের পাল্লা ৪০০ কিলোমিটার। ২০১৫ সাল থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে রয়েছে ব্রাহ্মসের এয়ার-ভ্যারিয়ান্ট। ২০১৬ সালে নাসিকের এয়ারবেস থেকে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড তথা হ্যালের বানানো সুখোই-৩০ এমকেআইয়ের সঙ্গে ব্রাহ্মস-এ জুড়ে টেস্ট-ফ্লাইট করানো হয়েছিল। রাশিয়ার থেকে যে সুখোইয়ের নয়া ভার্সন পেতে চলেছে ভারত, তার থেকেও ব্রাহ্মস মিসাইল নিক্ষেপ করা যাবে। চিনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার আবগে যা ভারতের অন্যতম বড় হাতিয়ার হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।