
শেষ আপডেট: 12 May 2022 13:26
রাতে বাড়িতে বসেই খবর পেয়েছিলেন। সকাল হতেই ছুটে এসেছেন। বারাসত, বারুইপাড়া, মধ্যমগ্রাম, কলকাতার (Kolkata) চারপাশ থেকে। কেউ আবার শহরেরই অন্য প্রান্তে থাকেন। প্রায় ৫০–৬০ জন স্বর্ণশিল্পী কাজ করতেন বউবাজারের (Bowbazar) দুর্গা পিতুরি লেনের দোকানে। নতুন করে ফাটল ধরা বাড়িগুলির বিভিন্ন ঘরে চলত তাদের কাজ। এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির বাসিন্দাদের সরানো হয়েছে।
এদিন সোনার দোকানের মালিক ও কর্মীরাও ঠাঁইনাড়া হয়ে গেলেন। জিনিসপত্র বের করে অনেকেই রাস্তায় বসে পড়েন। এবার কী করবেন, কোথায় যাবেন ঠিক করতে পারছেন না।
নোটবন্দি, করোনা, দু’বার মেট্রোর কাজের জন্য অঘটন। বিপর্যয় কাটছেই না বউবাজারের স্বর্ণশিল্পীদের। মোট ২০টি দোকান ছিল ওই বাড়িগুলিতে। এক একটা দোকানে ৫-৭ জন করে কাজ করতেন। নিজের ড্রয়ার ও কাজের সরঞ্জাম বের করে এনে অন্যদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মধ্যমগ্রামের আনন্দ সাহা। তিনি বললেন, ‘এবার কোথায় যাব জানি না। বাসিন্দাদের থাকার ব্যবস্থা তো মেট্রো করে দিয়েছে। আমাদের দোকানের ব্যবস্থা কে করবে।’

সকাল থেকেই ওই স্বর্ণশিল্পীরা ভিড় করেছিলেন পুলিশের গার্ডরেলের সামনে। তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। একে একে পুলিশ কমিশনার ও মেয়র ঘটনাস্থল দেখে যাওয়ার পর তাঁদের ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছিল যত দ্রুত সম্ভব জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসতে হবে। বারাসতের পলাশ দাস বললেন, ‘সকাল ৬ টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি। ঢুকতে দিল ন'টায়। পুলিশ বলল, বেশিক্ষণ সময় নেবেন না। যেটা এমারজেন্সি সেটা নিয়ে বেরিয়ে আসুন। এখন কী হবে, এই জিনিসপত্র নিয়ে কোথায় যাব জানিনা।’
১৯ নম্বরের দোকানের মালিক ফণীভূষণ রায় তাঁর দোকানের ফাটল দেখাতে দেখাতে বললেন, ‘একটু আগে অনুমতি নিয়ে দোকান খুললাম। কতদিন দোকান বন্ধ থাকবে জানিনা। কাজকর্ম সব লাটে উঠল।’
তপন সমাদ্দার দোকানের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সঙ্গে দুর্গার বাঁধানো ছবি নিয়ে রাস্তার কোণে দাঁড়িয়ে ছিলেন। থমথমে গলায় বললেন, ‘আমাদের ভাগ্যে লেখা ছিল। কোথায় যাব জানিনা। তবে কোথাও একটা ঘর খুঁজতে হবে। এখন কিছু ভাবতেই পারছিনা। বিপজ্জনক বাড়ি হলেও সবাই মিলে থাকতাম, তাই ভয় লাগত না। এখন তো তুলেই দেওয়া হল।’
২০১৯ সালে ধর্মতলার দিক থেকে টিবিএম (টানেল বোরিং মেশিন) চণ্ডীকে শিয়ালদা অভিমুখে নিয়ে যাওয়ার সময় বিপত্তি ঘটেছিল। সেবার মূলত ভূগর্ভস্থ জলাধরের দেয়াল ফেটেই বিপর্যয় ঘটেছিল। এবারও বড়সড় বিপর্যয় ঘটল বউবাজারে। যে কারণে সমস্যায় বহু স্বর্ণশিল্পী।
চাঙড় খসে পড়ছে, তবু হোটেলের 'রিফিউজি' জীবনে নারাজ দুর্গা পিতুরি লেনের বাসিন্দারা