
শেষ আপডেট: 21 December 2022 06:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'আমি কি ইস্তফা দেব?' নেটিজেনদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে টুইটার পোল (twitter poll) খুলে ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে এমনটাই প্রশ্ন রেখেছিলেন সিইও ইলন মাস্ক (Elon Musk)। একটি পোলও শুরু করেছিলেন তিনি, যাতে টুইটারের প্রধান হিসেবে মাস্কের থাকার পক্ষে এবং বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন নেটিজেনরা। মাস্ক জানিয়েছিলেন, ভোটের ফল যা হবে তা মেনে নেবেন তিনি। ভোট শেষ হতে দেখা গেল, মাস্কের ইস্তফার পক্ষেই ভোট দিয়েছেন বেশিরভাগ মানুষ। তাহলে কি সত্যিই পদত্যাগ করলেন মাস্ক?
মঙ্গলবার টুইটার-প্রধান জানিয়েছেন, তাঁর পরিবর্তে 'যথেষ্ট বোকা' কাউকে খুঁজে পাওয়া মাত্রই ইস্তফা দেবেন তিনি। ভোটের ফলাফল তাঁর বিপক্ষে যাওয়ার পরেই টুইটারে মাস্ক লেখেন, 'যে মুহূর্তে যথেষ্ট বোকা কাউকে আমি খুঁজে পাব যিনি এই কাজটি করতে চাইবেন, সেই মুহূর্তেই আমি সিইও পদ থেকে ইস্তফা দেব। তারপর আমি শুধুই সফ্টওয়্যার এবং সার্ভার দলকে পরিচালনা করব।'
যদিও এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন মাস্ক।
মালিকানা বদলের পর থেকেই মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারের পলিসিতে একাধিক পরিবর্তন এনেছেন সিইও ইলন মাস্ক। গত বৃহস্পতিবার হঠাৎই বেশ কিছু বিখ্যাত সাংবাদিকের হ্যান্ডেল সাসপেন্ড করে দেয় টুইটার। এই কাজ মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা হরণের সামিল বলে দাবি করে প্রতিবাদে সরব হন নেটিজেনরা, যাঁদের মধ্যে ছিলেন জাতিপুঞ্জের জেনারেল আন্তনিও গুতেরেস।
এছাড়াও রবিবার সকালেই মাস্ক পরিচালিত টুইটার জানায়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ট্রুথ সোশ্যাল, ট্রাইবেল সহ বেশ কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের হয়ে টুইটারে আর বিনামূল্যে প্রচার করা যাবে না। এই প্ল্যাটফর্মগুলির ইউজারনেম কিংবা লিঙ্ক দেওয়া কোনও কন্টেন্ট দেখলে তা সরিয়ে নেওয়া হবে, এবং সংশ্লিষ্ট হ্যান্ডেলটি ব্যান করা হবে বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেয় টুইটার।
সেই সিদ্ধান্তেরও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। টুইটারের মালিকানা হাতে আসার পর থেকেই বেশিরভাগ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে মাস্ককে। নেটিজেনদের অনেকেরই দাবি, টুইটারের সিইও পদে থাকার জন্য আদৌ যোগ্য নয় মাস্ক। তারপরেই রবিবার সন্ধ্যায় পোল খুলে মতামত নিতে শুরু করেন মাস্ক। টুইটারের চিফ এক্সিকিউটিং অফিসার হিসেবে তাঁর থাকা কিংবা ইস্তফার পক্ষে এবং বিপক্ষে নেটিজেনদের ভোট দিতে অনুরোধ করেন ইলন। তিনি জানান, ভোটের ফলাফল যা হবে সেটাই মেনে নেবেন তিনি। ‘খুব সতর্কতার সঙ্গে ভোট দিন, কারণ আপনি যা চাইছেন সেটাই হয়তো হতে চলেছে,’ লেখেন ধনকুবের ব্যবসায়ী।
এরপরেই দেখা যায়, প্রায় ১ কোটির ভোটের মধ্যে ৫৭.৫% ভোট পড়েছে মাস্কের ইস্তফা দেওয়ার পক্ষেই। তাঁকে এখনও সিইও হিসেবে দেখতে চান মাত্র ৪২.৫% মানুষ। এরপরেই একটি টুইট বার্তায় ইলন জানান, তাঁর পদের দায়িত্ব নেওয়ার উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পেলেই তিনি পদত্যাগ করবেন।
যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই একাধিক টুইট করে ওই পোলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন মাস্ক। মঙ্গলবার পোলিং সংস্থা হ্যারিস এক্স একটি টুইট করে তাদের নিজস্ব পোল প্রকাশ করে যাতে দেখা যায়, ৬১ শতাংশ টুইটার ব্যবহারকারী মাস্ককে সিইও পদে রাখার পক্ষেই রায় দিয়েছেন।
এরপরেই ফের মাস্ক লেখেন, হয়তো টুইটারে এখনও কিছু বট (BOT) সংক্রান্ত সমস্যা রয়ে গেছে। অর্থাৎ মানুষ নয়, তাঁর তৈরি করা পোলে ভোটদানকারীদের বেশিরভাগই বট বলে দাবি করেছেন মাস্ক। যদিও তাঁর এই বক্তব্যকে ভোটের ফলাফল বিপক্ষে যাওয়ার পরেও ইস্তফা দিতে না চাওয়ার অজুহাত হিসেবে দেখছেন অনেকে।
‘আমি কি ইস্তফা দেব?ভোটের ফল মেনে নেব,’ টুইটারে পোল তৈরি করলেন সিইও মাস্ক