দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আইসিইউ থেকে সাধারণ ওয়ার্ডে আনা হয়েছে তাঁকে। কয়েক দিন আগে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ার পরে ক্রমেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। প্রবল শ্বাসকষ্টের কারণে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখার মতো অবস্থা হয়েছিল প্রায়। কয়েক দিন পরে স্বাভাবিক হল পরিস্থিতি।
ব্রিটিশ সরকারি সূত্রের খবর, আগের থেকে অনেকটাই ভাল আছেন বরিস জনসন। সুস্থ হতে শুরু করেছেন। তবে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া পর্যন্ত এবং সুস্থতা পরবর্তী সংক্রমণের সময় পার করা পর্যন্ত বিশেষ পর্যবেক্ষণে থাকবেন তিনি। তার পরেই ফিরতে পারবেন স্বাভাবিক জীবনে।
গত মাসের শেষ দিক থেকেই জ্বর-সর্দি সহ করোনার উপসর্গ দেখা গিয়েছিল বরিস জনসনের। যদিও বাড়িতেই ছিলেন তিনি। ২৭ তারিখে ধরা পড়ে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে কোভিড ১৯ অসুখে আক্রান্ত তিনি। তার পরেও বাড়ির ভিতরেই নিজেকে আইসোলেশনে রেখেছিলেন তিনি। প্রশাসনিক কাজকর্মও করছিলেন টুকটাক।
আক্রান্ত অবস্থাতেও গত বৃহস্পতিবার তাঁকে তাঁর ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাসভবন থেকে এনএইচএস-এর এর স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশংসা করতে দেখা যায় এক ভিডিওতে। তার পর শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করোনা নিয়ে এক সরকারি বৈঠকেও দেখা যায় তাঁকে। শুক্রবারই এক টুইটার ভিডিওতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন করোনার যে সব লক্ষণ সাধারণত দেখা যায়, সেগুলি তাঁর অল্প পরিমাণে আছে।
কিন্তু অসুস্থতা ক্রমে বাড়লে ৫ এপ্রিল তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালে। অবস্থা ক্রমে খারাপ হয়, শ্বাসকষ্ট বাড়ে। আইসিইউ-তে নিয়ে গিয়ে অক্সিজেন দিতে হয়। তার পরেও চিকিৎসকরা জানান, অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না বরিসের। রাখা হতে পারে লাইফ সাপোর্টে।
শেষমেশ অবশ্য লাইফ সাপোর্ট দিতে হয়নি। ধীরে ধীরে সেরে ওঠেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখন কথাবার্তাও বলছেন, উঠে বসতেও পেরেছেন ৫৫ বছরের এই রাষ্ট্রনেতা। প্রধানমন্ত্রী জনসনের প্রেমিকা ক্যারি সেমন্ডস এখন সন্তানসম্ভবা। তিনিও করোনার অল্পস্বল্প লক্ষণ নিয়ে গত কয়েক দিন বাড়িতেই শয্যাশায়ী ছিলেন বলে টুইট করে জানিয়েছেন। কিন্তু তাঁর কোনও করোনা পরীক্ষা করা হয়নি।
ইতিমধ্যে ব্রিটেনে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৫ হাজার। মারা গেছেন প্রায় ৮ হাজার জন।