দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাফায়েল চুক্তি নিয়ে টানা কয়েক মাস ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করে চলেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। শুক্রবার লোকসভায় টানা দু’ঘণ্টা ধরে তার জবাব দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পালটা তুললেন বফর্স প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, ওই কেলেংকারির জেরে পতন হয়েছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর। কিন্তু রাফায়েলই ফের ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনবে মোদীকে।
নির্মলার অভিযোগ, কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন ১২৬ টি রাফায়েল জেট কেনার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু যখন দেখেছে এই ডিল থেকে টাকা রোজগারের সুযোগ নেই, তখনই বাতিল করেছে। নিজেদের ধনভাণ্ডারের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা জাতীয় নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করেছিল।
এরপরে বফর্স প্রসঙ্গ তুলে নির্মলা বলেন, ১৯৮৬ সালে যখন রাহুল গান্ধীর বাবা রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখনই বফর্সের কথা জানাজানি হয়ে যায়। বফর্স ছিল একটা কেলেংকারি। রাফায়েলে কোনও কেলেংকারি হয়নি। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই ওই জেট কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বফর্সের জন্য কংগ্রেস ভোটে হেরেছিল। কিন্তু রাফায়েল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনবে।
রাহুল গান্ধী অবশ্য নির্মলার ভাষণের পরেই বলেছেন, আমি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ তুলছি না। আমার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। কংগ্রেসের বক্তব্য, মোদী বেশি দাম দিয়ে ৩৬ টি রাফায়েল জেট কিনেছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল শিল্পপতি অনিল আম্বানিকে ৩০ হাজার কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়া। বুধবার লোকসভায় রাফায়েল নিয়ে বক্তব্য পেশ করার সময় স্পিকার তাঁকে অনিল আম্বানির নাম উল্লেখ করতে বারণ করেন। তখন রাহুল বারবার ‘এএ’ বলে একটি সাংকেতিক নাম উল্লেখ করেন। তার জবাবে নির্মলা এদিন বলেন, এ এ যেমন আছেন, তেমনিই আছেন ‘আর ভি’ আর ‘কিউ’। আর ভি বলতে তিনি পরোক্ষে রাহুলের ভগ্নীপতি রবার্ট ভদ্রকে বোঝাতে চেয়েছেন। কিউ বলতে বোঝাতে চেয়েছেন কাত্রোচ্চিকে। দু’জনের নামেই দুর্নীতির অভিযোগ আছে।
নির্মলার দাবি, তাঁরা সস্তায় রাফায়েল বিমান কিনেছেন। তাঁর কথায়, আমরা রাফায়েলের দাম দিয়েছি মোট ৬৭০ কোটি টাকা। কিন্তু ইউপিএ আমলে ওই বিমানের দর দেওয়া হয়েছিল ৭৩৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ আমরা নয় শতাংশ কম দামে ওই বিমান কিনেছি।
এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রথম দফায় রাফায়েলের ডেলিভারি দেওয়া হবে এবছরের সেপ্টেম্বরে। ২০২২ সালের মধ্যে ৩৬ টি বিমান আমরা পেয়ে যাব।
ভাষণের শেষ পর্বে নির্মলা বলেন, আমি গর্ব করার মতো কোনও পরিবার থেকে আসিনি। আমি খুব সাধারণ পরিবার থেকে এসেছি। কিন্তু নিজের সম্মান কখনও নষ্ট হতে দিইনি। প্রধানমন্ত্রী এসেছেন অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাৎপদ একটি পরিবার থেকে। রাহুল তাঁকে বলছেন চোর। তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত।
রাহুল অবশ্য পরে বলেন, তিনি নির্মলার বক্তব্যের জবাব দিতে পারতেন। কিন্তু প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার জন্য অপেক্ষা না করে ‘পালিয়ে গিয়েছেন’।