দ্য ওয়াল ব্যুরো : 'ফের কৃষকদের রক্তপাত ঘটল। লজ্জায় নত হল দেশের মাথা'। শনিবার হরিয়ানায় লাঠিচার্জ সম্পর্কে টুইটারে এমনই মন্তব্য করলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি আপলোড করেছেন। তাতে দেখা যায়, রক্তে এক ব্যক্তির জামা-কাপড় ভিজে গিয়েছে। তাঁর মাথা ফেটে রক্ত বেরোচ্ছে। তিনি মাথায় একটি কাপড় চেপে ধরে আছেন।
রাহুল লিখেছেন, হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের একটি সভার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিলেন কৃষকরা। বাস্তারা টোল প্লাজার কাছে পুলিশ তাঁদের ওপরে লাঠি চালিয়েছে। কৃষকরা হরিয়ানার বিজেপি প্রধান ও পি ধনকরের কনভয় আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন।
এদিন লাঠিচার্জের পরে ক্রুদ্ধ কৃষকরা হরিয়ানার বেশ কয়েকটি রাস্তা অবরোধ করেন। কুরুক্ষেত্র, দিল্লি-অমৃতসর হাইওয়ে এবং আম্বালার পথে শম্ভু টোল প্লাজা পর্যন্ত অঞ্চল বিরাট যানজটের কবলে পড়ে।
একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, রাস্তার ওপরে খাটিয়া পেতে বসে আছেন কৃষকরা। এদিকে তিন কিলোমিটার জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে গাড়ি, বাস এবং ট্রাক। অপর একটি ক্লিপে দেখা যায়, হেলমেট পরা দুই পুলিশকর্মী এক ব্যক্তির সঙ্গে তর্ক করছেন। সেই ব্যক্তিকে দেখে মনে হচ্ছে, তিনি গুরুতর আহত। তৃতীয় একটি ভিস্যুয়ালে দেখা যায়, বড় সংখ্যক পুলিশ হেলমেট পরে দাঁড়িয়ে আছে।
এদিন কারনাল অঞ্চলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সেখানে বিজেপির সভা হওয়ার কথা ছিল। বিজেপির রাজ্য প্রধান ও পি ধনকর তাতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ধনকরের কনভয় কারনাল ও পানিপথের মাঝে বাসতারা টোল প্লাজা পেরোনর পরেই কৃষকরা পথ আটকান। তাঁরা লাঠি দিয়ে বিজেপির রাজ্য প্রধানের গাড়িতে আঘাত করেন। ওই এলাকা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে বিজেপির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কৃষকরা মিছিল করে সেদিকে এগনোর চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা ওই 'নির্মম পুলিশ আক্রমণের' নিন্দা করে। পরে তারা কৃষকদের উদ্দেশে আরও বড় আন্দোলনে নামার আহ্বান জানায়। মোর্চার নেতা দর্শন পাল ফেসবুক পোস্টে বলেন, এদিন পুলিশ যাঁদের গ্রেফতার করেছে, তাঁদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।
গত ন'মাস ধরে কয়েক হাজার কৃষক দিল্লি সীমান্ত অবরোধ করে আছেন। এর ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পথ অবরোধের বিরুদ্ধে জনস্বার্থের মামলা করেছিলেন নয়ডার এক বাসিন্দা। গত সোমবার সেই মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট হরিয়ানা সরকারকে তিরস্কার করে। বিচারপতি বলেন, কেন্দ্র, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা সরকারের একটা সমাধান খুঁজে বার করা উচিত। একইসঙ্গে বলা হয়, কৃষকদের প্রতিবাদ করার অধিকারকে সম্মান জানাতে হবে।