
শেষ আপডেট: 1 August 2020 18:30
হোমি ভাবার গবেষকরা বলছেন, ইউরোপ, চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরাও বলেছেন, করোনা সংক্রমণে হাত, পায়ের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধতে দেখা গেছে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে ভেনাস থ্রম্বোএমবোলিসম (venous thromboembolism)। শিরায় রক্ত জমাট বাঁধতে থাকলে শেষে তা ফুসফুসকে আঘাত করে। অনেকসময়েই দেখা যায় ভাইরাসের সংক্রমণে ফুসফুসে মাইক্রোক্লট ধরা পড়েছে। ফলে শ্বাসের প্রক্রিয়া বাধা পেয়েছে। যার কারণেই তীব্র শ্বাসকষ্টে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অথবা কারও ক্ষেত্রে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম দেখা গেছে। সেক্ষেত্রে অধিক প্রদাহে সাইটোকাইন প্রোটিনের ক্ষরণ বেড়ে গিয়ে শ্বাসযন্ত্র কাজে ইস্তফা দিয়েছে।
গবেষকরা বলছেন, পশ্চিমের দেশগুলিতে এই ব্লাড ক্লটের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। ফুসফুস শুধু নয় হার্টেও রক্ত জমাট বেঁধে করোনা রোগীদের মৃত্যু হচ্ছে। এমনকি এও দেখা গেছে, করোনা সারিয়ে ওঠার পরেও হৃদপিণ্ডে রক্ত জমাট বেঁধেছে রোগীর, যার কারণে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে অনেকের। গ্রীষ্মপ্রধান দেশগুলিতে বিশেষত ভারতে এই ধরনের উপসর্গে রোগী মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম।
এই গবেষণায় রয়েছেন বিজ্ঞানী রাজেন্দ্র এ বাড়ওয়ে, রাজেশ দীক্ষিত, পঙ্কজ চতুর্বেদী ও সুদীপ গুপ্ত। গবেষকরা বলছেন, ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ কমে গেলে রক্তের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে, পালমোনারি থ্রম্বোসিসে আক্রান্ত হয় রোগী। তাছাড়াও গবেষকরা দেখেছেন, ভাইরাস ফুসফুসের এন্ডোথেলিয়াল কোষের (Endothelial Cells)মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। যার কারণে ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যাচ্ছে। রক্ত জমাট বাঁধছে। ‘সাইলেন্ট নিউমোনিয়া’, ‘সাইলেন্ট হাইপোক্সিয়া’ আক্রান্ত হচ্ছে রোগী। করোনায় মৃত্যুর এটাও বড় কারণ। পশ্চিমের দেশগুলিতে ফুসফুসের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি, ভারতে সে তুলনায় অনেক কম।