কাদাজলে ফিরহাদ, জলযন্ত্রণা নিয়ে আদালত ও জনতার আদালতের মুখে পুরসভা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরের (Kolkata) নিকাশির এই বেহাল দশা বহুবছর দেখেননি—বহু মানুষ এই অভিযোগ করছেন। কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ, সব জায়গাতেই এই কদিনে জমা জলের (Waterlogging) পরিস্থিতি রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো ছিল। পরিস্থিতি নিয়ে হাইকোর্টে স্বতঃপ্র
শেষ আপডেট: 24 September 2021 09:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরের (Kolkata) নিকাশির এই বেহাল দশা বহুবছর দেখেননি—বহু মানুষ এই অভিযোগ করছেন। কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ, সব জায়গাতেই এই কদিনে জমা জলের (Waterlogging) পরিস্থিতি রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো ছিল। পরিস্থিতি নিয়ে হাইকোর্টে স্বতঃপ্রণোদিত মামলারও আর্জিও জানিয়েছেন এক আইনজীবী। আগামী দু–দিনে ফের বৃষ্টিতে ভাসতে পারে কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। আবহাওয়া দফতর এমনটাই জানিয়েছে। সামনেই ভবানীপুরে উপনির্বাচন। টানা বৃষ্টি হলে সেই প্রভাব তৃণমূলের ভোটবাক্সেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা ঘাসফুল শিবিরে। ফলে বৃষ্টির জল নিকাশিই এখন কলকাতা পুরসভার সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা হওয়ার কথা ছিল। তাই মঙ্গলবার ভবানীপুরের সুধীর বোস রোডের জল দ্রুত বের করে দিতে বিশেষ তৎপরতা দেখা গিয়েছে কলকাতা পুরসভার। রাতারাতি পাম্প বসিয়ে জল বের করা হয়। ট্রাউজার হাঁটুর কাছে গুটিয়ে জল নিকাশির কাজ খতিয়ে দেখতে উপস্থিত ছিলেন খোদ ফিরহাদ হাকিম। পুরসভা সূত্রে খবর, ভোটের আগে পরে ভারী বৃষ্টি হলে সেভাবেই জমা জল দ্রুত বের করে দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে পুরসভা।
তৈরি থাকবে প্রচুর পোর্টেবল পাম্পও।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ঘটনা রুখতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আলোক বিভাগের কর্মীদের কাজে নামানো হয়েছে। ১৬টি বরোকে ৬টি জোনে ভাগ করে ওয়ার্ডপিছু দু–তিনজন করে কর্মী কার করছেন। শহরজুড়ে প্রায় ৩০০ জন কর্মী কাজ করছেন। কোথাও বিদ্যুৎতের ফিডার বক্স খোলা রয়েছে কী না, তার বেড়িয়ে আছে কী না, খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। যেসব জায়গায় জল জমার সমস্যা রয়েছে সেখানকার বাতিস্তম্ভ গুলির পরিস্থিতি দেখা হচ্ছে। উত্তর কলকাতার কলুতলা স্ট্রিট, চিত্তরঞ্জন অ্যাভেনিউ, ডালহৌসি এবং রাজভবন এলাকায় ইতিমধ্যেই নজরদারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার শহরের জল জমা নিয়ে ফিরহাদ হাকিম জানান, কলকাতা লাগোয়া জায়গার জল নামাতে সেচ দফতরকে নিকাশি খালগুলি দ্রুত পরিস্কার করার আবেদন করা হয়েছে পুরসভার তরফে। পাশাপাশি, তাঁর বক্তব্য ছিল, গঙ্গাও থইথই করছে। উত্তরাখণ্ড থেকে জল ঢুকে পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। যা নিয়ে বিতর্ক হয়।
শুক্রবার কলকাতার বেশকিছু অংশের জল নেমেছে। তবে নতুন করে বৃষ্টি হলে ফের জল জমবে বলে আশঙ্কা। তাই টানা পাম্প চালিয়ে জল নামানো ছাড়া অন্য কোনও উপায় দেখছে না পুরসভা। জল দ্রুততার সঙ্গে নামাতে বিভিন্ন এলাকার ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশন থেকে একসঙ্গে সব পাম্প চালানো হবে বলে পুরসভা সূত্রে খবর। এজন্য বরো একজিকিউটিভদের সঙ্গে নিকাশি বিভাগের সমন্বয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। একাধিক এলাকায় ম্যানহোল খুলে জল নামানোর চেষ্টা চলবে। বৃষ্টি না হলে ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে জল নেমে যাওয়ার কথা। কিন্তু চলতি বছরের বৃষ্টিতে তা হচ্ছে না কেন, তাও খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।
এদিন কলকাতা পুরসভার পুর প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য তারক সিং জানান, হাইকোর্টের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। বলেন, ‘অত্যাধিক বৃষ্টি হলে পুরসভার কিছু করার থাকে না। তবে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুরসভার কোনও গলদ নেই। খাল সংস্কার করতে হবে। গঙ্গার জলস্তর বাড়লে শহরে জলের দুর্ভোগ নতুন কিছু না। কিন্ত কয়েকদিনে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে জোয়ার থাকায় জল নামতে দেরি হয়েছে। কলকাতার নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক আছে। কিছু জায়গায় সমস্যা রয়েছে, অফিসারদের বলা হয়েছে।’
অন্যদিকে, আইনজীবী রবিশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় হাইকোর্টে জলযন্ত্রণার ছবি–সহ প্রতিবেদন পেশ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করার আর্জি জানিয়েছেন। বিচারপতি আশ্বাস দিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখবেন। সবমিলিয়ে ভ ভবানীপুরে ভোটের আগে নিকাশিই কলকাতা পুরসভার সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'