
শেষ আপডেট: 13 May 2023 10:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেব্রুয়ারি, ২০২২। আগাম কোনও আলোচনা ছাড়াই কর্নাটকের (Karnataka Assembly Election) বিজেপি (BJP) সরকার শিক্ষাঙ্গনে হিজাব নিষিদ্ধ করেছিল। যথারীতি একবাক্যে তা মেনে নেয়নি রাজ্যের মুসলিম সমাজ। সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্যাম্পাস থেকে রাজপথে প্রতিবাদ হয়েছে। হিন্দুত্ববাদীদের পাল্টা প্রচারে পরিস্থিতি হিংসাত্মক হয়ে ওঠে।
ক’দিন পরেই মসজিদে মাইক বাজানো এবংপশুর মাংস কাটাতে ইসলামির রীতি হালালের উপর কড়াকড়ি আরোপ করে সরকার। তখনই বোঝা গিয়েছিল বছর শেষে বিধানসভার ভোটের অঙ্গে বিজেপির মেরুকরণের পথে হাঁটা শুরু করেছে। ভোটের ময়দানে মেরুকরণের শেষ তাসটি ছিল বজরংবলী। কংগ্রেসের ইস্তাহারে বলা হয় ক্ষমতায় এলে দল বজরং দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। সেই ঘোষণাকে হনুমান ভগবান অর্থাৎ বজরংবলীর অপমান বলে প্রচারে পাল্টা হাওয়া তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সদলবলে নেমে পড়ে গোটা হিন্দুত্ববাদী শিবির।
তার আগে বিজেপি নিজেদের ইস্তাহারে কর্নাটকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আর এনআরসি অর্থাৎ ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেরুকরণকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ভোটের ফল বলছে, মেরুকরণে তাদের কোনও অস্ত্রই কাজে লাগেনি।
তবে সরকারের ব্যর্থতা, দুর্নীতি, অপশাসনের অভিযোগ এবং প্রার্থী বাছাই নিয়ে কোন্দলের জের এবং কংগ্রেসের কোমর বেঁধে লড়াইয়ের মোকাবিলায় কর্নাটকে বিজেপির পক্ষে হিন্দুত্বের চেনা পথে হাঁটা ছাড়া উপায়ও ছিল না। কর্নাটকে মেরুকরণ ও কট্টর হিন্দুত্বকে বিজেপি কতটা ‘জীবনদায়ী’ মনে করেছিল তা বোঝা যায় এনআরসি চালুর ঘোষণাতেও। বাংলাদেশি মুসলিমদের চিহ্নিত করতে এনআরসি চালু হয়েছে অসমে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছিলেন, গোটা দেশেই ক্রমান্বয়ে এনআরসি চালু করা হবে। যদিও পরে সরকার ও বিজেপির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় এনআরসি শুধু অসমেই হবে।
কিন্তু বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা ঘোষণা করেন কর্নাটকেও বিদেশি বাছাই অভিযান হবে এনআরসি চালু করে। কর্নাটক-সহ দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে অনুপ্রবেশের সমস্যার কথা সেভাবে শোনা যায়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, হিন্দু-মুসলিম বিভাজনকে চওড়া করতেই এনআরসি-কেও অস্ত্র করেছিল বিজেপি। কর্নাটকের মতো বড় রাজ্যে হিন্দুত্বের কোনও তাসই কাজে না আসায় চিন্তা বাড়ল বিজেপির।