দ্য ওয়াল ব্যুরো : গিরিডিতে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন বিজেপির সাংসদ সাক্ষী মহারাজ। গিরিডি থেকে সড়কপথে যাচ্ছিলেন ধানবাদে। সেখান থেকে তাঁর দিল্লিতে ফেরার ট্রেন ধরার কথা ছিল। কিন্তু কোভিড বিধি না মেনে রাস্তায় বেরোনর জন্য তাঁকে আটক করল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। সাংসদকে পাঠানো হল ১৪ দিনের হোম কোয়ারান্টাইনে। ধানবাদ জেলা প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ অফিসার শনিবার একথা জানিয়েছেন।
ধানবাদ পুলিশের ডেপুটি কমিশনার রাহুল কুমার সিনহা জানিয়েছেন, পিরটাঁড় থানার কাছে পুলিশ সাক্ষী মহারাজের গাড়ি আটকায়। তাঁকে শান্তি ভবন আশ্রমে কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়। সেখানেই তিনি একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। রাজ্য সরকার নির্দেশ দিয়েছে, ভিন রাজ্য থেকে কেউ ঝাড়খণ্ডে এলে তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিন কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে। সেইমতো সাক্ষী মহারাজকে পাঠানো হয়েছে কোয়ারান্টাইনে। ডেপুটি কমিশনার জানান, এমপি ইচ্ছা করলে ওই সময় কমানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারেন।
উত্তরপ্রদেশ থেকে নির্বাচিত হওয়া বিজেপি এমপি কোনও খবর না দিয়েই গিরিডিতে এসেছেন শুনে তৎপর হয় ঝাড়খণ্ড প্রশাসন। জেলার সীমান্ত ব্যারিকেড দিয়ে সিল করা হয়। সাক্ষী মহারাজকে অনুসরণ করছিল পুলিশের একটি টিম। তার নেতৃত্বে ছিলেন সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট প্রেরণা দীক্ষিত। সাক্ষী মহারাজ অবশ্য পরে সাংবাদিকদের বলেন, অসুস্থ মায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি গিরিডিতে এসেছিলেন। ঝাড়খণ্ড প্রশাসনকে আগেই সেকথা জানানো হয়েছিল।
পুলিশ ওই বিজেপি সাংসদকে আটকানোর পরে তিনি ফোনে উত্তরপ্রদেশের মুখ্য সচিবের সঙ্গে কথা বলেন। ঝাড়খণ্ডের অফিসারদের সঙ্গেও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিবের কথা বলিয়ে দেন। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। কোয়ারান্টাইনে রাখার জন্য তাঁকে শান্তি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।
সাক্ষী মহারাজ অভিযোগ করেন, তাঁকে জোর করে কোয়ারান্টাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, "আমি সংসদের সদস্য। ঝাড়খণ্ড ভারতের একটা অঙ্গরাজ্য। আমি কি অসুস্থ মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারি না?"
পরে তিনি বলেন, "রবিবার সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে আমার অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তার আগে আমাকে এখানে কোয়ারান্টাইন করে রাখা হয়েছে।" সাক্ষী মহারাজের অভিযোগ, আর জে ডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদবের ছেলে তেজপ্রতাপ বুধবারই রাঁচিতে এসেছিলেন। তিনি রিমসে লালুর সঙ্গে দেখা করেন। পরে সড়কপথে পাটনায় ফিরে যান। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তা থেকে প্রমাণিত হয়, রাজনৈতিক কারণেই ঝাড়খণ্ড সরকার তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।