দ্য ওয়াল ব্যুরো : দলের নামে নিন্দার জবাব দিয়েছিলেন। তাই তাঁকে টিকিট দিল না দলই। মহারাষ্ট্রে বিজেপির খুব পরিচিত মুখ ছিলেন কিরীট সোমাইয়া। সংসদে নানা বিতর্কেও পাঁচ বছরে তিনি ছিলেন সক্রিয়। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের পর শিবসেনার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয় বিজেপির। শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’-য় নিয়মিত বিজেপির সমালোচনা বেরতে থাকে। প্রত্যেকবার সমালোচনার পরেই বিজেপির তরফে জবাব দিতেন কিরীট সোমাইয়া। ২০১৯-এর ভোটের আগে শিবসেনার সঙ্গে জোট হয়েছে বিজেপির। শিবসেনার প্রবল চাপ ছিল কিরীট সোমাইয়াকে প্রার্থী করা চলবে না। সেই চাপের মুখেই তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রার্থী তালিকা থেকে।
মুম্বই থেকে দু’বার সাংসদ হয়েছেন কিরীট সোমাইয়া। ২০১৪ সালে তিনি মুম্বই নর্থ ইস্ট আসনে তিন লক্ষের বেশি ভোটে জিতেছিলেন। তিনি বাদে গতবারের সব সাংসদই এবার বিজেপির টিকিট পেয়েছেন।
৬৫ বছরের কিরীটকে প্রায়ই দেখা যেত, নানা তথ্যপ্রমাণ দিয়ে শিবসেনার অভিযোগের জবাব দিচ্ছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে বিজেপি ও শিবসেনার জোট হয়। সেই জোটের বলি হলেন কিরীট। শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরেই নাকি কিরীটকে অপছন্দ করেন। অভিযোগ, কিরীট তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছিলেন।
উদ্ধব তাঁর ওপরে ক্রুদ্ধ হয়েছেন শুনে কিরীট নাকি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উদ্ধব রাজি হননি। ২০১৬ সালে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করেন উদ্ধব। বিদেশ থেকে কালো টাকা ফিরিয়ে আনার কী হল জানতে চান। তখন কিরীট পালটা বলেছিলেন, মায়াবতী, মুলায়ম সিং যাদব এবং উদ্ধব ঠাকরের মতো নেতাদের বলতে হবে তাঁরা গরিবের পক্ষে আছেন, নাকি ধনীর পক্ষে।
সরাসরি উদ্ধবের দিকে ইঙ্গিত করে কিরীট বলেন, গ্রেটার মুম্বই পুরসভায় যে মাফিয়ারা বসে আছে তিনি তাদের মুখোশ খুলে দেবেন। মাফিয়াদের ‘গড ফাদার’-কেও ছাড়বেন না। এক্ষেত্রে তিনি উদ্ধবের দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন বলে অভিযোগ।