দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুতোয় ঝুলছিল সরকার। উপনির্বাচনের ফলাফলের ধাক্কায় তার পতন ঘটার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু শেষমেশ কর্নাটক উপনির্বাচনে বিপুল সাফল্য পেল বিজেপি।
কর্নাটকের ২২৪ টি আসনের বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক ছিল মাত্র ১০৫ জন। সেই সঙ্গে এক জন নির্দলের সমর্থন ছিল গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে ১৫টি আসনের উপনির্বাচনে অন্তত ৬টি আসন না জিততে পারলে সরকার টিকিয়ে রাখতে পারতেন না ইয়েদুরাপ্পা। তা সংখ্যালঘু হয়ে যেত। কিন্তু দেখা গেল, ১২টি আসনই জিতে নিল ইয়েদুরাপ্পা বাহিনী। ফলে কর্নাটকে স্বস্তিজনক পরিস্থিতিতে পৌঁছে গেল বিজেপি। মহারাষ্ট্রে ধাক্কা খাওয়ার পরে যা গেরুয়া শিবিরকে কিছুটা অক্সিজেন দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
যে ১৫টি আসনে উপনির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে সোমবার তার মধ্যে ১২টি আসনে গত বিধানসভা ভোটে জিতেছিল কংগ্রেস। তিনটিতে জিতেছিল জনতা দল সেকুলার। কিন্তু ওই ১৫ জন বিধায়ক দল ভেঙে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ায় তাঁদের বিধানসভার সদস্যপদ খারিজ করে দেন স্পিকার। তাই উপনির্বাচন হয়। এবং উপনির্বাচনে তাঁদের এবার প্রার্থী করে বিজেপি। এদিন ফলাফলে দেখা গেল ওই বিক্ষুব্ধদের ১২ জনই জিতে গিয়েছেন।
রাজনৈতিক শিবিরের অনেকের ধারণা ছিল, ওই আসনগুলিতে যেহেতু কংগ্রেস ও জেডিএসই গত কয়েকটি নির্বাচনে লাগাতার জিতেছে, তাই এবারও সম্ভাবনা রয়েছে। তা ছাড়া মহারাষ্ট্রে শিবসেনা-এনসিপির সঙ্গে কংগ্রেস সম্প্রতি সরকার গঠনে সামিল হয়েছে। স্থানীয় কংগ্রেস নেতারা ভেবেছিলেন তাও কর্নাটকের উপনির্বাচনকে কিছুটা প্রভাবিত করবে। কিন্তু এই ভোটে কংগ্রেস জিতেছে মাত্র ২টি আসনে। জনতা দল সেকুলার একটি আসনেও জিততে পারেনি।
কর্নাটক যে বিজেপিকে পুনরায় আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে, তা এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথাতেও ধরা পড়েছে। আপাতত ঝাড়খণ্ড নির্বাচনকে পাখির চোখ করেছেন তিনি। ঝাড়খণ্ড নির্বাচনের ভোট গণনা হবে ২৩ ডিসেম্বর।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ঝাড়খণ্ড ভোটে জেতা বিজেপির কাছে এখন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ, হরিয়ানায় লোকসভা ভোটে সুইপ করলেও বিধানসভা ভোটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বিজেপি। মহারাষ্ট্রেও সরকার হাত ছাড়া হয়েছে। কিন্তু কর্নাটকে উপনির্বাচনে সাফল্যের পর ঝাড়খণ্ডেও জিততে পারলে সাম্প্রতিক সব গ্লানি কাটিয়ে ফের আগ্রাসী হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।