
অখিল গিরি
শেষ আপডেট: 3 August 2024 18:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হকার উচ্ছেদের সময়ে রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরির 'শাসানি'র মুখে পড়েছেন বন দফতরের মহিলা অফিসার। সেই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মন্ত্রীর গ্রেফতারির দাবি তুলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তাঁদের সাফ বক্তব্য, অফিসার পরের কথা, একজন মহিলার সঙ্গে এমন আচরণ করার জন্য অখিল গিরির যথাযথ শাস্তি প্রাপ্য। একই সঙ্গে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া হোক, এই দাবিও করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন অখিল গিরি। পরে অবশ্য সেই বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে নেন। তবে বন দফতরের মহিলা অফিসারকে 'ধমকে' তিনি আপাতত অনুতপ্ত নন। অখিল বলছেন, কাউকে ব্যক্তিগতভাবে তিনি আক্রমণ করেননি। যদিও বিজেপি যে ভিডিও পোস্ট করেছে তাতে অখিলকে ‘জানোয়ার’, ‘বেয়াদব’ জাতীয় শব্দ প্রয়োগ করতে শোনা গেছে। এছাড়া মহিলা অফিসারের উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ''আপনার আয়ু ৭-৮ দিন, ১০ দিন।'' বিজেপির দাবি, মহিলা অফিসারকে 'দেখে নেওয়া'র হুমকিও দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী।
West Bengal Minister Akhil Giri threatens a lady Forest Officer because she was performing her duty to remove illegal encroachment in forest areas.
— BJP West Bengal (@BJP4Bengal) August 3, 2024
What did he say -
1. "সরকারি কর্মচারী, মাথা নিচু করে কথা বলবেন।" - You are a government employee, bow down your head (infront of… pic.twitter.com/CDrULP9Mli
সমুদ্র সৈকতে অবৈধভাবে বন দফতরের জায়গায় দোকান ঘর গজিয়ে ওঠার অভিযোগ বহুদিন ধরেই আসছিল। শুক্রবার রাতে বন দফতরের আধিকারিকরা সেই দোকানগুলি ভেঙে দেন। এরপরেই শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাজ্যের কারামন্ত্রী, রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি মহিলা অফিসার মৌমিতা সাউয়ের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। মৌমিতার অভিযোগ, দোকানদারদের এই সমস্ত অবৈধ নির্মাণ তৈরিতে বাধা দেন তাঁরা। তখন তাঁদের মন্ত্রী অখিল গিরির হুমকির মুখে পড়তে হয়।
এদিকে বন দফতরের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পাল্টা দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন মন্ত্রী অখিল গিরি। তাঁর বক্তব্য, "এটা একটা পর্যটন কেন্দ্র। এখানে কেউ জমি দখল করছে না। দোকান করে পেট চালাচ্ছেন কয়েকজন গরীব মানুষ। রাত এগারোটার সময় এসে বন দফতরের আধিকারিকরা তাঁদের দোকানঘরগুলি ভেঙে দিয়ে যায়। আলোচনা করেও এই সমস্যার সমাধান করা যেত।"
ইতিমধ্যেই রাজ্যের মন্ত্রীর এমন আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন দলীয় নেতা কুণাল ঘোষ, মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদাও। কুণালের বক্তব্য, মহিলা অফিসারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার দুর্ভাগ্যজনক। কোনও সমস্যা হলে বন দফতরের মন্ত্রীকেই বলা যেত। অন্যদিকে দ্য ওয়াল-কে খোদ বনমন্ত্রী বীরবাহা জানিয়েছেন, ''কর্মরত অফিসারকে এভাবে বলে তিনি ঠিক করেননি। এভাবে কেউ বলতে পারেন না। তিনি যে পদেই থাকুন। যদি কিছু বলার থাকত আমি দফতরের মন্ত্রী, আমাকে উনি বলতে পারতেন। মুখ্যমন্ত্রীকে রিপোর্ট দেব।''