
শেষ আপডেট: 14 November 2023 18:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জয়নগরে জোড়া খুনের ঘটনায় মঙ্গলবারই সিআইডি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। ইতিমধ্যে এক অভিযুক্তকে আটক করে খুনের ঘটনার তদন্তে নেমেছে জেলা পুলিশ। তবে রাজ্য পুলিশ বা সিআইডিকে দিয়ে এই খুনের কিনারা সম্ভব নয় বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। তাঁদের মতে, বগটুই গণহত্যার মতো জয়নগরের জোড়া খুনের ঘটনাতেও সিবিআই তদন্ত হোক।
হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, “রাজ্য পুলিশ আইনশৃঙ্খলা সামলাতে ব্যর্থ বলেই সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিআইডিও রাজ্যের অধীনে। ফলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে হলে বগটুইয়ের মতো জয়নগরের জোড়া খুনেও সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত।”
মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় দলের সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়ে এসেছিলেন লকেট। সেখানেই একথা বলেন তিনি। সূত্রের খবর, এ বিষয়ে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করতে পারে গেরুয়া শিবির।
সোমবার ভোরে নমাজ পড়তে যাওয়ার পথে বামনগাছি অঞ্চলের তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্করকে গুলি করে মারে মোটরবাইকে আসা আততায়ীরা। নিজের বাড়ির কাছেই খুন হন সইফুদ্দিন। দুষ্কৃতীদের মধ্যে কয়েকজন আলপথে মোটরবাইক নিয়ে পালিয়ে গেলেও ২ জনকে ধরে ফেলেন গ্রামবাসীরা। গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় এক দুষ্কৃতীর। অপর দুষ্কৃতীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
তৃণমূল নেতা খুনের ওই ঘটনা জানাজানি হতেই বাঙাল বুড়ির মোড় থেকে চার কিলোমিটার দূরে দলুয়াখাঁকি লস্করপাড়ার একাধিক বাড়িতে পরপর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সিপিএম কর্মী সমর্থকদের অভিযোগ, তৃণমূলের লোকজনই তাদের বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়েছে। অনেকেই এই ঘটনার সঙ্গে প্রায় ২ বছর আগে রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে ঘটে যাওয়া বীভৎস হত্যালীলার প্রসঙ্গ টেনে আনছেন। গোটা ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
বিজেপির বক্তব্য, জয়নগরের যে এলাকায় খুনের ঘটনা ঘটেছে সেটি তৃণমূলের শক্তঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। সেখানে শাসকদলের মদত ছাড়া মাছিও গলতে পারে না। ফলে ঘটনার নেপথ্যে শাসকদলের কোন্দলই থাকতে পারে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির। লকেটের বক্তব্য, “সিবিআই তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।”