গান্ধীজিকে নিয়ে মন্তব্যের জন্য হেগড়েকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলল বিজেপি, সূত্রের খবর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গান্ধীজির স্বাধীনতা সংগ্রামকে ‘নাটক’ বলার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চান সাংসদ অনন্তকুমার হেগড়ে, এমনটাই চাইছে তাঁর দল বিজেপি। বিশেষ সূত্রে একথা জানা গেছে। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে যাঁরা ‘মহাত্মা’ বলে সম্বোধন করেন তাঁদের উদ্দেশেও অ
শেষ আপডেট: 3 February 2020 10:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গান্ধীজির স্বাধীনতা সংগ্রামকে ‘নাটক’ বলার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চান সাংসদ অনন্তকুমার হেগড়ে, এমনটাই চাইছে তাঁর দল বিজেপি। বিশেষ সূত্রে একথা জানা গেছে। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে যাঁরা ‘মহাত্মা’ বলে সম্বোধন করেন তাঁদের উদ্দেশেও অপশব্দ প্রয়োগ করেছেন হেগড়ে। এইসব মন্তব্যের জন্যই তাঁর দল বিজেপি অসন্তুষ্ট।
মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে ‘মহাত্মা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং।
গান্ধী সম্বন্ধে একের পর এক অবমাননাকর মন্তব্য করায় ছ’বারের সাংসদ হেগড়ের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। দেশজুড়ে এখন গান্ধীর জন্মের সার্ধশতবর্ষ পালন করছে সরকার। এই পরিস্থিতির মধ্যেই গান্ধীকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন হেগড়ে।
শনিবার বেঙ্গালুরুতে একটি সভায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনন্তকুমার হেগড়ে বলেছিলেন, “ব্রিটিশদের অনুমতি নিয়ে ও তাদের মদতে” গান্ধী আসলে নাটক করতেন। ব্রিটিশ পুলিশ এইসব নেতাদের গায়ে হাত পর্যন্ত কোনওদিন তোলেনি বলেও কটাক্ষ করেন হেগড়ে। তিনি বলেন, “এই সব নেতাদের কাউকে পুলিশ একবারের জন্যও মারেনি। তাঁদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল একটা বড়সড় নাটক। ব্রিটিশদের অনুমতি নিয়ে ওইসব নেতারা নাটক করেছেন, সেসব সত্যিকারের সংগ্রাম ছিল না।”
হেগড়ে বলেন, “যাঁরা কংগ্রেসকে সমর্থন করেন তাঁরা বলেন যে তাঁর আমরণ অনশন ও সত্যাগ্রহের জন্যই ভারত স্বাধীন হয়েছে। ব্রিটিশরা সত্যাগ্রহের জন্য দেশ ছেড়ে যায়নি, তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিল। যখন আমি এইসব ইতিহাস পড়ি তখন আমার রক্ত ফুটতে থাকে। এই রকম একটা লোককে আমাদের দেশে মহাত্মা বলা হয়।”
প্রথম নরেন্দ্র মোদী সরকারের মন্ত্রী ছিলেন হেগড়ে যদিও টানা দ্বিতীয়বারের জন্য এনডিএ ক্ষমতায় আসার পরে তাঁকে আর মন্ত্রিসভায় সামিল করেননি প্রধানমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী চৌবে বলেছেন, “তাঁর একথা বলা উচিত হয়নি।” মহাত্মা গান্ধীর নাতি তুষার গান্ধী টুইট করে বলেছেন, “হেগড়ে ঠিক কথাই বলেছেন যে বাপুর স্বাধীনতা সংগ্রাম নাটক ছিল। সেই নাটকের গভীরতা এমন ছিল যে অনৈতিক ঔপনিবেশিকতা ও ভারতকে দাসে পরিণত করা নিয়ে তা ব্রিটিশদের চোখ খুলে দিয়েছিল।”
https://twitter.com/TusharG/status/1224215682474053634?s=19
তাঁর মন্তব্যের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে বিজেপি। দলের বরিষ্ঠ নেতা জগদম্বিকা পাল বলেছেন, “পুরো বিশ্ব গান্ধী সম্বন্ধে জানে, হতে পারে এটি তাঁর ব্যক্তিগত মতামত।”