‘বহিরাগত’ বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে শাহ স্পষ্ট করেছেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন বাংলারই কোনও ভূমিপুত্র। কোনও ‘পরিবারবাদ’ বা ‘ভাইপো’র স্থান নেই বিজেপিতে। তৃণমূলের চালু করা কোনও জনমুখী প্রকল্প বা মানুষের খাদ্যাভ্যাস (মাছ-ডিম) বন্ধ হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 10 April 2026 22:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় ভোট এলেই বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রধান অস্ত্র হয়ে দাঁড়ায় ‘বহিরাগত’ বিতর্ক। বিজেপিকে ‘দিল্লি-গুজরাতের পার্টি’ বলে আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। শুক্রবার ইস্তাহার প্রকাশের মঞ্চ থেকে তার পাল্টা জবাব দিলেন অমিত শাহ। সাফ জানিয়ে দিলেন, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন বাংলার 'মাটির সন্তান'ই।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারতন্ত্র চালাচ্ছেন বাংলার রাজনীতিতে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে অমিত শাহ এদিন পরিবারবাদ নিয়ে তৃণমূলকে তুলোধনা করেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তিনি বলেন, “আমরা কোনও পরিবারবাদ করি না যে একজনের পর আর একজন ‘ভাইপো’ মুখ্যমন্ত্রী হবে।” শাহের স্পষ্ট বার্তা, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কোনও বংশপরম্পরায় রাজনীতিতে আসা ব্যক্তি হবেন না। বরং “বাংলার বাসিন্দা কোনও বাঙালিই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন।”
এরপরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। কে হবেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুখ? বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে হবেন, সেই বিষয়ে, শাহ এদিন কোনও নাম না নিলেও তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, “যিনি হবেন, তিনি একজন অত্যন্ত শক্তিশালী নেতা এবং দক্ষ সংগঠকই হবেন।” অর্থাৎ, ২০২৬-এর লড়াইয়ে বিজেপি যে কেবল ইস্তাহারে ভাতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তা-ই নয়, বরং একজন ‘হেভিওয়েট’ ভূমিপুত্রকে সামনে রেখেই ময়দানে নামতে চাইছে, তা শাহের কথাতেই স্পষ্ট।
পাশপাশি, এই বক্তব্যের মাধ্যমে দলীয় কোন্দল কিছুটা ধাপমাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বলেও মত অনেকের। এর আগে, দক্ষিণ কলকাতার হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে প্রচারে বেরিয়ে বিজেপি কর্মীদের পাল্টা স্লোগান ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী মুখ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। শুভেন্দুকে সামনে রেখে গেরুয়া শিবিরের একাংশ সেদিন গলা ফাটান, ‘ভবানীপুরে জিতবে যে, মুখ্যমন্ত্রী হবে সে’।
বকলমে শুভেন্দুই কি তবে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী (BJP CM Candidate) পদপ্রার্থী? রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্ন যখন ঘোরাফেরা করছে, তখন দলের অন্দরের সমীকরণ কিন্তু অন্য কথা বলছে। বিজেপির একটি অংশ এখনই শুভেন্দুকে ‘মুখ’ হিসেবে মানতে নারাজ। বিশেষ করে দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা খড়্গপুর সদরের প্রার্থী দিলীপ ঘোষের মন্তব্য জল্পনা আরও উসকে দেয়। মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী প্রসঙ্গে দিলীপবাবু চিরাচরিত কায়দাতেই বলেন, “কে প্রার্থী হবেন, তা তো ভোটের পরে দেখা যাবে। দলের পদ্ধতি আপনারা জানেন, আগে থেকে কোনও ঘোষণা হয় না। অনেক সময় এমন কেউ মুখ্যমন্ত্রী হন যাঁর মুখ কেউ আগে থেকে চেনে না।” শুভেন্দু নিজেও জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী কে হবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দল।
বিশ্লেষকদের মতে, শাহের আজকের মন্তব্য আসলে তৃণমূলের ‘বাংলার মেয়ে’ বা ‘বহিরাগত’ প্রচারের পাল্টা ঢাল। একদিকে পরিবারবাদের খোঁচা, আর অন্যদিকে বাঙালির আবেগকে মর্যাদা দেওয়া — দুই রণকৌশল নিয়েই যে এবার বঙ্গ জয়ের নীল নকশা সাজিয়েছে দিল্লি, তা কার্যত দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।