ইস্তাহার প্রকাশের (BJP Manifesto) মঞ্চ থেকে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে (TMC Government) ‘অপশাসন’-এর দায়ে বিঁধে শাহ বলেন, “অনুপ্রবেশ নিয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হবে।

অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 10 April 2026 22:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশ কি একুশ— বঙ্গের ভোট রাজনীতিতে বিজেপির তুরুপের তাস ছিল ‘অনুপ্রবেশ’। এবার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও (West Bengal Assembly Election 2026) সেই চেনা রণকৌশলেই শান দিয়েছে গেরুয়া শিবির। শুক্রবার নিউ টাউনের এক হোটেলে দলের নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সঙ্কল্পপত্র’ (BJP Sankalp Patra) প্রকাশ করতে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশছাড়া করা হবে। তাঁর কথায় উঠে এল ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতির কথা।
জিরো টলারেন্স ও ত্রিস্তরীয় নীতি
ইস্তাহার প্রকাশের (BJP Manifesto) মঞ্চ থেকে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে (TMC Government) ‘অপশাসন’-এর দায়ে বিঁধে শাহ বলেন, “অনুপ্রবেশ নিয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হবে। আমাদের ক্ষমতায় আনুন, বাংলা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো হবে। এক্ষেত্রে আমরা ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট (চিহ্নিতকরণ, তালিকা থেকে বাদ ও বিতাড়ন) নীতিতে কাজ করব। রাজ্য এবং দেশের সুরক্ষা নিয়ে কোনও আপস নয়।” বস্তুত, প্রথম নির্বাচনী জনসভা (কোচবিহার) থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও অনুপ্রবেশ নিয়ে কথা বলেছিলেন।
গত কয়েক বছরে অমিত শাহ যতবার রাজ্য সফরে এসেছেন, তা সে শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে ভবানীপুরের রোড শো হোক বা তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ, তাঁর বক্তৃতার বড় অংশ জুড়েই থেকেছে অনুপ্রবেশ ইস্যু। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, সীমান্ত পেরিয়ে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ‘মদত’ দিয়ে ভোটব্যাঙ্ক রক্ষা করছে শাসকদল। এ দিনও শাহ বুঝিয়ে দিলেন, হিন্দু ভোটারদের মধ্যে সুরক্ষা ও অস্তিত্বের ভীতিকে হাতিয়ার করেই এবারও বৈতরণী পার হতে চাইছে বিজেপি।
বিজেপির এ বারের ‘সঙ্কল্পপত্র’-এর ছত্রে ছত্রে রয়েছে সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি। তিনি বলেন, “বাংলার মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং গরিব মহিলাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তাঁদের ক্ষমতায়নের বদলে কেবল রাজনীতির বোড়ে হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।” এই পরিস্থিতি বদলাতেই বিজেপির বড় প্রতিশ্রুতি — মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যেই সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে ৩,০০০ টাকা। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা হিসেবেই এই অংকের ঘোষণা করল বিজেপি।
কেবল মহিলারাই নন, বিজেপির ইস্তাহারে বড় চমক রয়েছে যুব সমাজের জন্যও। বাংলায় কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে বারবার সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। সেই ক্ষোভকে পুঁজি করেই অমিত শাহ জানিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে বেকার যুবকদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে ‘বেকার ভাতা’ দেওয়া হবে। শাহের কথায়, “বাংলার মেধাবী যুবকরা কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে চলে যাচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এসে শিল্পায়নের পাশাপাশি এই যুবকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।”