দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার দিল্লিতে আপ নেতা তথা দিল্লি জল বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান রাঘব চাড্ডার অফিসে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, আপ দিল্লিতে কৃষকদের ধরনা সমর্থন করায় বিজেপির সমর্থকরাই ওই অফিসে হানা দিয়েছিল। তারা মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও হুমকি দিয়ে গিয়েছে। রাঘব চাড্ডা টুইটারে লিখেছেন, 'বিজেপির গুন্ডারা বলে গিয়েছে, কেজরিওয়াল যেন কৃষকদের সমর্থন না করেন।' এর পরেই কেজরিওয়াল টুইট করে বলেন, 'আমার দল ও সরকার শেষ পর্যন্ত কৃষকদের সমর্থন করে যাবে।'
হিন্দিতে কেজরিওয়াল টুইট করেন, 'আমরা এই ধরনের কাপুরুষোচিত হামলায় ভয় পাই না। আমি দলের কর্মীদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, এই ধরনের উস্কানিতে প্রভাবিত হবেন না। কৃষকদের পক্ষে থাকুন।' দিল্লির পুরসভাগুলিকে অর্থ বরাদ্দ করা নিয়ে আপের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছে বিজেপির। এর আগে অভিযোগ ওঠে, বিজেপি সমর্থকরা উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ শিশোদিয়ার বাড়িতে হামলা করেছিল। কেজরিওয়ালকেও কার্যত গৃহবন্দি করেছিল।
এদিন সকালে দিল্লি জল বোর্ডের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। তার নেতৃত্বে ছিলেন দিল্লির বিজেপি প্রধান অদেশ গুপ্ত। আপ এক হিন্দি বিবৃতিতে জানায়, দুপুর সাড়ে ১২ টা নাগাদ বিজেপি কর্মীরা দরজা ভেঙে জল বোর্ডের অফিসে ঢুকে পড়ে। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। যে ঘরে রাঘব চাড্ডা বসেন, সেখানে ভাঙচুর করে।
রাঘব চাড্ডা টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। তাতে দেখা যায়, দরজার কাচ ও ফুলদানি ভাঙা হয়েছে। মেঝেয় কাচ ছড়িয়ে আছে। ডিসেম্বরের শুরুতে আপ অভিযোগ করে, বিজেপি কর্মীরা কেজরিওয়ালের বাসভবন চত্বরে ঢুকে পড়েছিল। সেখানে তারা সিসিটিভি ভাঙচুর করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আপ নেতাদের বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বিজেপি। বিজেপি শাসিত পুরসভাগুলির দাবি, আপ সরকার তাদের ১৩ হাজার কোটি টাকা পাওনা বকেয়া রেখেছে। অন্যদিকে আপের অভিযোগ, বিভিন্ন পুরসভায় প্রায় ২৫০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।
https://twitter.com/raghav_chadha/status/1342030841292021760
এদিন জল বোর্ডের অফিসে ভাঙচুরের পর মনীশ শিশোদিয়া টুইট করে বলেন, 'বিজেপির অপর নাম গুন্ডামি। বিজেপি এখন সরাসরি বিরোধীদের অফিসে ও বাড়িতে ঢুকে গুন্ডামি চালাচ্ছে।'
এরই মধ্যে দিল্লি ও তাঁর আশপাশে কৃষক আন্দোলন ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে। মঙ্গলবার কৃষক বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরকেও। আম্বালা যাওয়ার পথে কালো পতাকা দেখানো হয় তাঁকে। বিক্ষোভের জেরে ফিরে আসতে হয় মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়কে।