
শেষ আপডেট: 7 February 2024 20:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: সন্দেশখালির মুকুটহীন সম্রাট শেখ শাহজাহানের নাগাল এখনও পায়নি ইডি। বুধবার, ৭ তারিখ ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁকে সেখানে দেখা যায়নি। এবার শাহজাহানের ইস্যুকে নিয়ে সন্দেশখালিতে ঘুঁটি সাজাতে চাইছে বিজেপি, এমনটাই দাবি করেছে তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদলের অভিযোগ, বিরোধীদল বিজেপি মেছোভেরি নিয়ে রাজনীতি করতে চাইছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্দেশখালির গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৩ হাজার মেছোভেরি রয়েছে। সেখানে বছরে দুবার ফসলের চাষ হলেও এই অঞ্চলের মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল নন। রুটিরুজির সংস্থান করতে মাছ চাষ করেন তাঁরা। কিন্তু সেখানেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ইয়াস, আমফান, ফণীর মতো একাধিক ঘূর্ণি ঝড়ের প্রভাবে হয়ে সুন্দরবনের জমির চরিত্রে বদল ঘটেছে। মেছোভেরিগুলিতে ভাইরাস আক্রমণের প্রবণতা ভীষণ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মাছের উৎপাদনে। চিংড়ি, কাঁকড়া, পারসে, তেলাপিয়া, ভেটকির মতো মিঠাজলের মাছের প্রজাতি বেশি মাত্রায় ভাইরাস আক্রান্ত হচ্ছে।
মাছচাষিরা জানিয়েছেন, আগের মতো মাছ উৎপাদন হচ্ছে না। অনেকটাই কমে গেছে। তাছাড়া ভেরিগুলিতে মাছ ঠিকমতো বড় হচ্ছে না। ফলে অনেক সময় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। পরিসংখ্যান অনুযায়ী সন্দেশখালির মাছের ভেরিগুলির ৯০ শতাংশই ভাইরাস আক্রান্ত। তাতে জমির মালিক ও মেছোভেরির লিজ মালিকদের মধ্যে টাকাপয়সা লেনদেন নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এদের দুই পক্ষের কোন্দলে রাজনৈতিক ফায়দা খুঁজছে বিজেপি।
মাছের উৎপাদনে ঘাটতি থাকায় মেছোভেরির মালিকরা লিজের জমির মালিকদের ঠিকমতো টাকা দিতে পারছেন না। এই সুযোগে বিজেপি জমির মালিকের একটা অংশকে সংগঠিত করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেছে। এই বিষয় নিয়ে সন্দেশখালি থানায় ডেপুটেশনও দিয়েছে তারা।
কিন্তু বিজেপির এই কার্যকলাপকে কোনওভাবেই প্রশ্রয় দিতে চাইছে না শাসকদল তৃণমূল। ইতিমধ্যেই সন্দেশখালি গ্রাম পঞ্চায়েত উপপ্রধান গণেশ হালদার স্থানীয়দের নিয়ে মেছোভেরিতে মিছিল করেন। উত্তর দাড়ি জঙ্গল পাত্রপাড়া, কাহারপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দু'কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে বিজেপির প্রচারের বিরোধিতা করে।
কয়েকশো তৃণমূলপন্থী জমির মালিক ও মেছোভেরির লোকজন, কর্মী, সমর্থকরা বিজেপির আন্দোলনের বিরোধিতায় নেমেছে। তিনি বলেন, "ইডি সিবিআইয়ের সুযোগ নিয়ে বিজেপি এখানে কিছু মানুষকে লেলিয়ে দিয়ে লোকসভা ভোটের আগে ফায়দা তুলতে চাইছে। মানুষ তাদের কুৎসা, অপপ্রচার, নোংরামি দেখছে। এসব করলেই রাজনৈতিকভাবে লোকসভা ভোটে তাঁরা সন্দেশখালিতে পিছিয়ে পড়বে।"
বসিরহাট লোকসভার বিজেপি কনভেনর বিকাশ সিং বলেন, গত তিন বছর ধরে জমির মালিকরা লিজের টাকা পায়নি। বেশকিছু তৃণমূল নেতা, সেই টাকা আত্মসাৎ করেছে। যার ফলে সাধারণ মানুষ মিছিল করেছে। এই অঞ্চলে তৃণমূলের ভোট নেই। লোকসভা ভোটে ভাল ফল হবে বলে আশাবাদী বিজেপি নেতৃত্ব।