দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিবসেনাকে বিজেপি মোক্ষম শিক্ষা দিয়েছে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই শিবসেনা বলে আসছিল, তাদের দল থেকেই কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করা হোক। মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য তারা বিজেপির সঙ্গে জোট ভেঙেছে এবং দীর্ঘ দিন ধরে এনসিপি ও কংগ্রেসকে বুঝিয়ে পাঁচ বছরের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদ নিশ্চিত করেছে। শুক্রবারই ঘোষণা করে দেওয়া হয় যে, মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শিবসেনার সভাপতি উদ্ধব ঠাকরে। কিন্তু সকালেই পুরো দেশ জেনে গেল, মহারাষ্ট্রে দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ। উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন এনসিপির অজিত পাওয়ার।
মহারাষ্ট্র নতুন সরকার গড়া প্রসঙ্গে কেন্দ্রে বিজেপির সহযোগী রিপাবলিকান পার্টির রামদাস আঠাওয়ালে বলেন, “সেনাকে শিক্ষা দিয়েছে বিজেপি। অমিত শাহ বলেছিলেন, সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে, এখন ভালই হয়েছে।”
আঠাওয়ালে মনে করিয়ে দেন যে গত সপ্তাহেই বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেছিলেন যে, চিন্তার কিছু নেই, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। যখন তিনি মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন তখনই অমিত শাহ বলেছিলেন যে, বিজে.পিই সরকার গড়বে।
অমিত শাহ তাঁকে বলেছিলেন, বিজেপি ও শিবসেনা একজোট হয়ে সরকার গঠন করবে। বিজেপি সরকার গঠন করল ঠিকই, তবে শিবসেনাকে ছাড়া, তাও নাটকীয় ভাবে। ভোর ৫.৪৭ মিনিটে মহারাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রপতিশাসন তুলে নেওয়া হয় এবং সকাল আটটায় মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ। উপমুখ্যমন্ত্রী হন শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ার।
শপথ নেওয়ার পরে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ বলেন, “স্থায়ী সরকারই প্রয়োজন মহারাষ্ট্রের, খিচুড়ি প্রশাসন নয়।” শিবসেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে তারা জনতার রায় মানেনি। পরে তিনি বলেন, “সরকার গড়ার জন্য আমাকে রাজ্যপাল আহ্বান আহ্বান করেছেন, অমি এনসিপি ও অজিত পাওয়ারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
২৯ অক্টোবরের মধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে দেবেন্দ্র ফড়ণবীশকে।
ভাইপো অজিয়ক পাওয়ারের এই সিদ্ধান্তকে তার ব্যক্তিগকত সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন এনসিপি সভাপতি শরদ পাওয়ার। শরদের উত্তরাধিকার নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই লড়াই ছিল শরদের মেয়ে সুপ্রিয়া সুলে ও ভাইপো অজিত পাওয়ারের মধ্যে। এই অবস্থায় অনেকে মনে করছেন শুধু দল নয়, পরিবারও ভেঙেছে মারাঠা স্ট্রংম্যান নামে পরিচিত শরদ পাওয়ারের।
অজিত পাওয়ার ছিলেন এনসিপি বিধায়ক দলেসর প্রধান। তাঁকে এই পদ থেকে বহিস্কার করেছেন দলের সভাপতি শরদ পাওয়ার।