বড় ছেলে সুব্রতের পাশে দাঁড়ালেন মা ছবিরানি ঠাকুর ও পরিবারের আরেক সদস্যা তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর, অন্যদিকে শান্তনুর পাশে ঠাকুরবাড়ির কর্তা ও প্রাক্তন মন্ত্রী বাবা মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর।

শান্তনু বনাম সুব্রত
শেষ আপডেট: 24 August 2025 22:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ ফের প্রকাশ্যে। অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি তথা গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর সরাসরি আক্রমণ শানালেন ছোট ভাই, বনগাঁর সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধে।
শুধু তাই নয়, দু’ভাইয়ের এই দ্বন্দ্বে পরিবারের মধ্যেও বিভাজন স্পষ্ট। বড় ছেলে সুব্রতের পাশে দাঁড়ালেন মা ছবিরানি ঠাকুর ও পরিবারের আরেক সদস্যা তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর, অন্যদিকে শান্তনুর পাশে ঠাকুরবাড়ির কর্তা ও প্রাক্তন মন্ত্রী বাবা মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর।
সিএএ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ঠাকুরনগরসহ রাজ্যের নানা প্রান্তে বিজেপি শিবিরের উদ্যোগে ‘সিএএ সহযোগিতা শিবির’ চালু হয়। শান্তনুর উদ্যোগে ঠাকুরবাড়ির নাটমন্দিরে এমনই এক শিবির শুরু হয়েছে, যেখানে উদ্বাস্তু হয়ে এদেশে আসা মতুয়া ভক্তদের আবেদনপত্র জমা দিতে সাহায্য করা হচ্ছে। কিন্তু সেই শিবির নিয়েই রবিবার নতুন বিতর্ক। সুব্রতের অভিযোগ, ভক্তদের পূজা-অর্চনার জায়গা নাটমন্দিরকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছেন শান্তনু।
পাল্টা শান্তনুর দাবি, ‘‘এখানে রাজনৈতিক কিছু হচ্ছে না। ভক্তদের সুবিধার জন্যই এই শিবির চালু।’’
শনিবার নাটমন্দিরে বিশেষ শিবির হলে সেখানে গিয়ে আপত্তি তোলেন বিধায়ক সুব্রত। অভিযোগ, তিনি ভক্তদের হুমকিও দেন। অন্যদিকে শান্তনুর বিরুদ্ধে নাটমন্দিরের নিয়ন্ত্রণ কুক্ষিগত করার অভিযোগ তুলেছেন সুব্রত।
এই দ্বন্দ্বে ঠাকুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যরাও অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। মমতাবালা ঠাকুর প্রকাশ্যে সুব্রতের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, নাটমন্দিরে কেন সহযোগিতা শিবির চলবে? সুব্রতের মা ছবিরানিও ছেলের সপক্ষে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘শান্তনুর নেতৃত্বে ঠাকুরবাড়ির পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মহাসঙ্ঘাধিপতি হিসেবে সুব্রত যা করেছেন, তা ন্যায্য অধিকার।’’
অন্যদিকে বাবা মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নাটমন্দিরে শিবির করার অনুমতি তিনিই দিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘‘পারিবারিক মতপার্থক্য থাকলে ভিতরে আলোচনা করা যেত। বাইরের শক্তিকে এনে ঝামেলা বাড়ানো হচ্ছে কেন?’’
শান্তনুর অভিযোগ আরও কড়া, ‘‘সুব্রত বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যেতে চাইছে। মন্ত্রী হওয়ার লোভে ইচ্ছে করে অশান্তি তৈরি করছে।’’ তবে সুব্রতের জবাব, ‘‘পরিবার আমার কাছে আগে। পরে রাজনীতি।’’
ফলে মতুয়া রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ঠাকুরবাড়িতেই এখন কার্যত দ্বিমুখী লড়াই। একদিকে মা-ছেলের অবস্থান, অন্যদিকে বাবা-ছেলের। এই পারিবারিক দ্বন্দ্বে রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।