দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরে জোট সরকার থেকে বেরিয়ে এল বিজেপি। ২০১৬ সালে তারা পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সঙ্গে যৌথভাবে সরকার গঠন করে। সমর্থন তুলে নেওয়ার কথা জানিয়ে ইতিমধ্যে রাজ্যপাল এন এন ভোরাকে চিঠি দিয়েছে বিজেপি। সঙ্গে সঙ্গে ইস্তফা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিও। এর পরে কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজেপির মুখপাত্র রাম মাধব বলেছেন, আমরা যে আশা নিয়ে মুফতিকে সমর্থন করেছিলাম, তিনি সেইমতো কাজ করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে আমরা সমর্থন তুলে নিয়েছি । জম্মু- কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হাওয়া উচিত । কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছে বিরোধী দলগুলিও । তাদের বক্তব্য, বিজেপি ও পিডিপির জোট ছিল অনৈতিক । তাই সরকার পড়ে যাওয়া অবশ্যম্ভাবী ছিল ।
কাশ্মীরে সংঘর্ষ বিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে বিজেপির সঙ্গে পিডিপির বিরোধ শুরু হয়। প্রথমে রমজানের সময় সংঘর্ষ বিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন মেহবুবা মুফতি। রাজ্য বিজেপি তার তীব্র বিরোধিতা করেছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, এর ফলে নিরাপত্তারক্ষীরা মনোবল হারিয়ে ফেলবে।
কেন্দ্রীয় সরকার তখন পিডিপির প্রস্তাব মেনে নেয়। কিন্তু রমজান শেষ হওয়ার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, সংঘর্ষবিরতির সময় জঙ্গি হানা দ্বিগুণ বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে ফের সেনা অভিযান শুরু করা ছাড়া উপায় নেই।
এতেই গুরুতর আপত্তি জানায় পিডিপি। তাদের মতে, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে আরও আন্তরিকতার সঙ্গে আলোচনা শুরু করা উচিত ছিল।
দুই দলের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ সৃষ্টি হওয়ার পরে বিজেপি শেষপর্যন্ত পিডিপির সঙ্গ ত্যাগ করল। জম্মু-কাশ্মীরে সরকার পড়ল সংকটে।